Search
Friday 19 January 2018
  • :
  • :

খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন না: আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন না: আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের জবাবে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে আপনারা ঘরে ফসল তুলবেন সেটা কোনো ভাবেই সম্ভব হবেনা। বরং এরজন্য উচ্চমূল্য দিয়ে আপনাদেরকে পালাতে হবে।

একজন আইনমন্ত্রীর মুখে এ ধরনে কথা শোভা পায়না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ যে তারা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তারই প্রতিফলন ঘটেছে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে দেশ বাচাও মানুষ বাচাও আন্দোলন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

৭ই মার্চের ভাষণ উপলক্ষে আজ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত সমাবেশ প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের সমাবেশকে স্বাগত জানাই। একটা গনতান্ত্রীক দল হিসাহে প্রতিটি দলেরই সমাবেশ করার অধিকার রয়েছে। তবে কয়েকদিন আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই আরেকটি সমাবেশের আয়োজন করেছিল বিএনপি। এবং সেই সমাবেশ করার জন্য ২৩টি শর্ত দেয়া হয়েছিল, সমাবেশে যেন লোকজন না আসতে পারে তারজন্য গাড়ী- ঘোরা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। এটাকি লেভেল প্লেইং ফিল্ড হল। একদল সরকারি সকল সুবিধায় নির্বাচনী প্রচারনা করবে অন্যদল সাধারণ সকল সুযোগ সুবিধা পাবেনা এটা তো গনতন্ত্র নয়। আজ লেভেল প্লেইং ফিল্ড নাই নির্বাচন কালীন সময়ে থাকবে এরতো কোনো আশাই দেখছি না।

নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র নেতা বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ যদি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মত চিন্তা করে তাহলে তারা ভুল করছে।আগামী নির্বাচনের জন্য দেশের মানুষ প্রস্তুত। তারা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপ নিবিরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণকে ধোকা দেয়ার জন্যেই এই চুক্তি করা হয়েছে। এটা একটা ওপেন চুক্তি। কবে থেকে তাদেরকে ফেরত পাঠানো হবে এবং কতদিনের মধ্যে পাঠানো হবে নির্দিষ্ট কোনো কিছুই নাই এই চুক্তির মধ্যে এটা শুধুমাত্র জনগণকে ধোকা দেয়ার জন্যেই করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় পরামর্শ বৈঠকে প্রধান আলোচকের আলোচনায় বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন,সকলের একটা মত আছে চিন্তা আছে আমি জানি না আমার এ কথাটি বিচার বিভাগের বিপক্ষে যাবে কিনা?প্রধান বিচারপতিকে বিদেশে পাঠানোর নামে সরিয়ে দেয়া হয়েছে অন্য বিচারপতিদের হুঁমকি দেয়ার জন্য।এখন আমাদের বিচারপতিদের কথা আইনমন্ত্রী,অ্যাটনি জেনারেল বলছেন,রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে বলা হচ্ছে কিন্তু আমাদের ৫ জন বিচারপতি কোন কথা বলেন না।তাদের কথা বলেন অন্যজন।আর যখন প্রধান বিচারপতি বিদেশ যাওয়ার সময় বলে জান আমি সুস্থ্য আছি তখন তো২ আইনমন্ত্রী পদত্যাগ করতে পারতেন।কারন তিনি আইনমন্ত্রী ডাক্তারের ভূমিকা পালন করে বলেছিলেন আমি নিজে স্বচোক্ষে দেখেছি প্রধান বিচারপতি অসুস্থ্য।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন,
বিএনপির চেয়াপারসন বেগম খালেদা জিয়া সহ-এমন কোন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ নেই যাদের বিরুদ্ধে মামলা ছাড়া আর কিছু আছে।মামলার বাহিরে আছে গুম,খুন অপহরণ। আর যাদেরকে গুম, করা হয় এদের যারা কেউ কেউ গুম থেকে ফিরে আসে তারা আর কোন কথা বলেন না।যেমন কবি ফরহাদ মজাহার অনেক লিখতেন তিনি ফিরে আসার পর কি হয়েছে জানি না তবে এই দেশে তিনি একটা যিনিস বুঝতে পেরেছেন পন্ডিত ব্যক্তি লেখক বুদ্ধিজীবি হওয়া ভয়ঙ্কর একটা অপরাধের সমতুল্য হতে পারে। ভিন্নমত পোষণ করলে কি পরিস্থিতিতে পরতে হয় সেটি তিনি বুঝতে পেরেছেন।

পরামর্শ বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা:জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন,খালেদা জিয়ার তো শাস্তি হয়ে গেছে গতকাল আইনমন্ত্রী বলেছেন তার নাকি অভিযোগ প্রমানিত হয়েছে।আইনমন্ত্রী যদি এ কথা বলেন এই সিগনাল টা কি?নিচের বিচারকদের কাছে সিগনাল নাকি?এখানে কি হাইকোর্টের করণীয় নেই?অন্তত হাইকোর্ট একটি সুমোটল জারি করে বলতে পারে একটি বিচারাধীন মামলা সম্পর্কে বক্তব্য রাখার অধিকার আইনমন্ত্রীর নেই।আইনমন্ত্রীকে মানহানির মামলায় অভিযুক্ত করা উচিৎ।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে জাতীয় পরামর্শ বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক দিলারা চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা
হাবিবুর রহমান হাবিব,আতাউর রহমান ঢালী,আব্দুল মান্নান তালুকদার,সুকোমল বড়ূয়া,যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন,তথ্য ও গভেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক কাদের গনি মহানগরস বিএনপির সহ-সভাপতি ইউনুস মৃধা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী,জিনাপের সভাপতি মিয়া মো:আনোয়ার প্রমুখ।

Share this...
Share on FacebookPrint this pageShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn



Skip to toolbar