Search
Friday 19 January 2018
  • :
  • :

পোশাক শ্রমিকদের বেতন বাড়ছে

পোশাক শ্রমিকদের বেতন বাড়ছে
Spread the love

এশিয়ানপোস্ট প্রতিবেদক:

পোশাক শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি বাড়ছে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে শেষ বেতন বাড়ানো হয়েছিল। ৫ বছর পর পর মজুরি পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। সে হিসেবে সর্বশেষ মজুরি নির্ধারণের চার বছর পরেই মালিকপক্ষ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।

 

বর্তমান পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা থেকে কত বাড়ানো হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে এ-সংক্রান্ত মজুরি বোর্ড। তবে এবার বোর্ড গঠন এবং অন্যান্য বিষয়ে আগেভাগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতামত এবং পরামর্শ নেবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। গত মজুরি বোর্ডের নির্ধারণ করা নূন্যতম মজুরি প্রথমে মানতে রাজি হয়নি মালিক পক্ষ। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নেন তারা।

 

গার্মেন্টস শ্রমিক নেতারা মনে করেন, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক আন্দোলন রুখতেই মালিকেরা এ প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে মালিকপক্ষের এই প্রস্তাবকে স্বাগতও জানিয়েছেন তারা।

 

বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, দেশের সবচেয়ে বড় এই শিল্প খাতে ১৯৮৫ সালে ন্যূনতম মজুরি ছিল ৫৪২ টাকা। ১৯৯৪ সালে তা বাড়িয়ে ৯৩০ টাকা করা হয়। এর পর ২০০৬ সালে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ১,৬৬২ টাকা করা হয়। এর চার বছর পরে ২০১০ সালে নিম্নতম মজুরি হয় ৩ হাজার টাকা। সর্বশেষ ২০১৩ সালে মজুরি কমিশন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে ৫,৩০০ টাকা। অবশ্য প্রতিবার বেতন বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক আন্দোলন করতে হয়েছে শ্রমিকদের। আর এজন্য চিরাচরিত নিয়ম ভেঙে শ্রমিকদের দাবির আগেই হঠাৎ মালিকদের বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবকে কিছুটা সন্দেহের চোখে দেখছেন শ্রমিক নেতারা।

 

বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক কর্মচারী লীগের প্রেসিডেন্ট সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, ন্যায্য মজুরি নির্ধারণের একটি মাপকাঠির জন্য শ্রমিক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি। তার মতে, মালিকদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাবকে স্বাগত জানাই। তবে এটা কতটুকু সদিচ্ছা রয়েছে বা শ্রমিকদের আন্দোলনকে থামিয়ে দেয়ার জন্য কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মান এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমরা ১৬ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছি। এখন মালিকেরা সেই দাবিকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য হয়তো নামমাত্র বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব দেবে।

 

পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সহসভাপতি মাহমুদ খান বলেন, প্রতি বছর বেতন বাড়ানো নিয়ে আন্দোলন হয়। এবার যেন না হয় সেজন্য শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনা করেই আমরা তাদের বেতন বাড়ানোর জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি। এর পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই। এক বছর পরে দিলে আলাপ আলোচনা করতে করতে আরো ৬/৭ মাস সময় চলে যেত, এজন্য এক বছর আগেই আমরা প্রস্তাব দিয়েছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মালিকরা একাই বেতন কাঠামো ঠিক করবে না। বর্তমান বাজার মূল্যায়ণ করে, আমাদের সক্ষমতা বিবেচনা করে সরকার, সুশীল সমাজ, শ্রমিক নেতা, বিজিএমইএসহ সংশ্লিষ্ট সকলে সেটা নির্ধারণ করবে। এখানে শ্রমিকদের ফাঁকি দেয়ার বিষয় নয় বলে মনে করেন তিনি।

 

গত বছরের ডিসেম্বরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আশুলিয়ায় অসংখ্য কারখানায় কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। আন্দোলনরত বহু শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের ধরপাকড়ের ঘটনায় বিদেশি ক্রেতাদের চাপের মুখে পড়েন গার্মেন্টস মালিকরা। সেই চাপের ধারাবাহিকতায় বেতন বৃদ্ধির এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন শ্রমিক নেতারা।

 

এদিকে পোশাক খাতের শ্রমিক নেতারা মালিকপক্ষের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা তাও বিবেচনায় আনা দরকার।

 

বিজিএমইএ নেতারা মনে করেন, প্রতিবছরই শ্রমিকদের নেতাদের একটি অংশ তাদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে থাকেন। গত বছরের ডিসেম্বরে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমেছিল এবং আশুলিয়া ও সাভার এলাকার কারখানাগুলোতে আন্দোলন ছড়িয়ে দিয়েছিল। অথচ নিয়ম হলো- বেতন কাঠামো প্রতি ৫ বছর পর পর পুনর্মূল্যায়ন হবে। কিন্তু তারা সময়ের আগেই নিয়ম ভঙ্গ করে আন্দোলনের নামে কারখানায় অস্থিতিশীল করে তোলে। এ কারণে আন্দোলন যাতে না হয় এজন্য প্রস্তাব দিয়েছে বিজিএমইএ।

Share this...
Share on FacebookPrint this pageShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn



Skip to toolbar