কৃষিজমিতে ইটভাটা, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য

কৃষিজমিতে ইটভাটা, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য
Spread the love

এশিয়ানপোস্ট ডেস্ক:

ইটভাটা নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে আদালত পরিবেশের ক্ষতি করে চালানো নির্মাণকাজ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জবাব চেয়েছেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরও কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু এসব নিষেধাজ্ঞা-নির্দেশ অমান্য করে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নে কৃষিজমিতে ‘এসএনবি’ নামের একটি ইটভাটা নির্মাণের কাজ চলছে জোরেশোরে। শিশুশ্রমিক দিয়েও কাজ করানো হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, কুতুবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামে প্রবাসফেরত শামছুল আলম ‘এসএনবি (শামছুল নুসরাত ব্রিকস)’ নামের একটি জিগজ্যাগ পদ্ধতির ইটভাটা স্থাপনের কাজ করছেন প্রায় পাঁচ মাস ধরে। ইটভাটা স্থাপনের জন্য তিনি আবাদি জমিকে ডাঙ্গা (অনাবাদি) জমি দেখিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অবস্থাগত ছাড়পত্র নিয়েছেন। অথচ পরিবেশ অধিদপ্তরের ১ নম্বর শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ইটভাটা নির্মাণকালে কোনো কর্মকাণ্ড-প্রক্রিয়া দ্বারা কোনোভাবে (মাটি, পানি, বায়ু ও শব্দ) দূষণ করা যাবে না। ’ এ ছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সড়ক থেকে আধাকিলোমিটার দূরে ইটভাটা স্থাপনের শর্ত রয়েছে। কিন্তু এসএনবি ইটভাটা স্থাপনে এসব মানা হয়নি।

এদিকে দুই ও তিন ফসলি জমিতে ইটভাটা স্থাপন করা হচ্ছে মর্মে একই এলাকার আসাদুজ্জামান ছাকী পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ইটভাটাটি বন্ধ রাখার আবেদন করেন।

গত ২৯ অক্টোবর রংপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মেজবাবুল আলম বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ রাখার অনুরোধ করে চিঠি দেন ভাটা মালিককে। এর পরও শামছুল আলম রংপুরের বিশ্বখ্যাত হাঁড়িভাঙা আমসহ নানা জাতের বাগান ও আবাদি জমিতে এসএনবির নির্মাণকাজ চালাচ্ছেন। ইট তৈরি ও পোড়ানোর জন্য শত শত শ্রমিক দিন-রাত কাজ করছে। ইটভাটা স্থাপনের স্থানটিকে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ডাঙ্গা জমি বলে প্রত্যয়নপত্র দিলেও বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এটিকে দোলা (এক বা দুই ফসলি) জমি উল্লেখ করে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন। এ সুযোগে ইটভাটার মালিক ভাটা নির্মাণের কাজ চালাচ্ছেন। এ কারণে এলাকাবাসী আমবাগানসহ আবাদি জমির পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কায় ইটভাটা বন্ধের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেন। কিন্তু তাঁদের নামে ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে বদরগঞ্জ থানায় জিডি করেছেন শামছুল আলম। এতে আবেদনকারীরা শঙ্কিত।

জেলা প্রশাসনের দপ্তর থেকে গত ৯ নভেম্বর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু রাফা মোহাম্মদ আরিফ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। অথচ আবেদনকারী আসাদুজ্জামান ছাকীকে সেখানে উপস্থিত থাকতে অবগত করা হয়নি। এদিকে প্রভাবশালী শামছুল আলম বিভিন্ন আবাদি জমির মাটি (টপসয়েল) কেটে স্তূপ করাসহ ইট তৈরির কাজ অব্যাহত রাখলে এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করেন আসাদুজ্জামান ছাকী। ১৩ নভেম্বর হাইকোর্টের যৌথ বেঞ্চের দুই বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদ রিট শুনানি শেষে ইটভাটার নির্মাণকাজ ছয় মাসের জন্য বন্ধ রাখার আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব, রংপুর জেলা প্রশাসক, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ইটভাটা মালিক শামছুল আলমকে পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থানগত ছাড়পত্র কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, চার সপ্তাহের মধ্যে তা জানাতে রুল জারি করেন।

কিন্তু সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, শামছুল আলম ইটভাটার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর নিয়োগ দেওয়া শ্রমিকরা ভাটায় ইট পোড়ার জন্য আগুন দেওয়ার কাজে ব্যস্ত। স্কুলপড়ুয়া শিশু-কিশোরদের দিয়েও সেখানে তৈরি করা হচ্ছে কাঁচা ইট।

ইটভাটা বন্ধের জন্য আবেদনকারী আসাদুজ্জামান ছাকী বলেন, ‘পরিবেশ ও মানুষের জন্য আবেদন করা হয়েছে। এখন এ নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে আমাকে প্রতিমুহূর্তে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ’

এসএনবি ইটভাটার মালিক শামছুল আলম বলেন, ‘ইটভাটা তৈরির আগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এলাকার মানুষের কাছে অনুমতি চেয়েছি। তখন এ নিয়ে কেউ কোনো ওজর-আপত্তি করেনি। যে আমবাগান নিয়ে এত কথা ভাটায় আগুন দেওয়া হলে ধোঁয়া সেই বাগানে লাগবে না। বাতাস ওপর দিয়ে দূরে চলে যাবে। ইটভাটা স্থাপনের জন্য আমার পক্ষে স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন দপ্তরে গণপিটিশন করেছে। ’

বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবর রহমান বলেন, ‘ইটভাটা স্থাপনের কোনো অনুমতি আমি দিইনি। যে স্থানে ভাটা নির্মাণ হচ্ছে সেই জমির শ্রেণিগত অবস্থানের জন্য মতামত দিয়েছি। ’

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মেজবাবুল আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ইটভাটা নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘আদালতের কপি পেয়েছি। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’-কালের কন্ঠ

Share this...
Share on FacebookPrint this pageShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn



Skip to toolbar