মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই শেষ হবে কবে?

মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই শেষ হবে কবে?
Spread the love

এশিয়ানপোস্ট ডেস্ক  :

স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই যথাযথ যোগ্য সম্মান পাননি। অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা যেমন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, আবার বাদ পড়েছেন অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। কে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা আর কে ভুয়া, নতুন করে কারা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন, সেই যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু করে সরকার। কিন্তু যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যোগ্য সম্মান কবে পাবেন? সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রস্তুতি ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম বুমেরাং হয়েছে। লক্ষাধিক নতুন আবেদন জমা পড়েছে। কিন্তু বিভিন্ন তালিকায় থাকা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্ত সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে নতুন করে আরো ২৭ হাজার জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য সুপারিশ করেছে বিভিন্ন উপজেলায় গঠিত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি। তবে এ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। তাই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অনেকটাই স্থগিত রেখেছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)।

প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরির আবেদন করা ও তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নিরীক্ষণ এবং তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য জেলা, মহানগর ও উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি করে সরকার। কিন্তু সেই কমিটির অনেকের বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ আসতে থাকায় যাচাই-বাছাই কমিটিগুলো দফায় দফায় সংশোধন করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য অনলাইনে আবেদন জমা পড়েছে ৯৪ হাজার ৭৫১টি। সারাদেশে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ৪৬৯টি কমিটি কাজ শুরু করে ২১ জানুয়ারি থেকে। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ উপজেলা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ করেছে। এর মধ্যে ৩৪৭টি কমিটির প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে জামুকা।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) যাচাই-বাছাইকৃত প্রাপ্ত প্রতিবেদনের আলোকে সাত বিভাগে ৪৬৯টি কমিটির মধ্যে ৩৪৭টি কমিটির সুপারিশকৃত গেজেটভুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা ও গেজেটভুক্তির জন্য সুপারিশকৃত নতুন আবেদনকারীর সংখ্যা চূড়ান্ত করেছে। ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ১২৪টি কমিটি গঠন করা হয়। ৯০টি কমিটি তাদের প্রতিবেদন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে পাঠিয়েছে। নতুন আবেদনকারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ২৮ হাজার ২৫৩ জন। এর মধ্যে ৪ হাজার ৮৪২ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। আর ১৫ হাজার ৬৮৯ জনের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। এমনিভাবে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ৭৯টি কমিটি গঠন করা হয়। ৫৭টি কমিটি তাদের প্রতিবেদন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে পাঠিয়েছে। এই বিভাগে নতুন আবেদনকারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১৩ হাজার ৪৯৪ জন। এর মধ্যে ৬ হাজার ৬২৬ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। আর ৭ হাজার ৪৫৮ জনের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।

সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ৩৮টি কমিটির মধ্যে ২৬টির প্রতিবেদনে নতুন আবেদনকারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ২ হাজার ২৫৭ জন। এর মধ্যে ৮০১ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য সুপারিশ করেছে কমিটি। আর ৩ হাজার ৩৪৭ জনের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।

খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ৬১টি কমিটির মধ্যে ৪১টির প্রতিবেদনে নতুন আবেদনকারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১৫ হাজার ৫১১ জন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪০১ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য সুপারিশ করেছে কমিটি। আর ৭ হাজার ২৯২ জনের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।
বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ৪২টি কমিটির মধ্যে ৩০টির প্রতিবেদনে নতুন আবেদনকারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১০ হাজার ৪৭৭ জন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪১৯ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য সুপারিশ করেছে কমিটি। আর ৫ হাজার ৫৫৯ জনের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ৬৬টি কমিটির মধ্যে ৫৬টির প্রতিবেদনে নতুন আবেদনকারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১৫ হাজার ২৮৬ জন। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭৫২ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য সুপারিশ করেছে কমিটি। আর ৯ হাজার ৭৪১ জনের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।
রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ৫৯টি কমিটি গঠন করা হয়। ৫৬টি কমিটি তাদের প্রতিবেদন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে পাঠিয়েছে। এই বিভাগে নতুন আবেদনকারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৯ হাজার ৪৭৩ জন। এর মধ্যে ৩ হাজার ১০১ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। আর ৬ হাজার ৭৯১ জনের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।

মানবকণ্ঠের কাছে থাকা খুলনা বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫টি ক্যাটাগরিতে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন জমা পড়ে। এই তথ্য অনুযায়ী খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, নড়াইল, বাগেরহাট, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, খুলনা, সাতক্ষীরা, মাগুরা, যশোর জেলায় ৩৬ হাজার ৮৮৩টি। সাধারণ ক্যাটাগরিতে অনলাইনে ২১ হাজার ৪৪০টি এবং সরাসরি ১ হাজার ৮১৯টি আবেদন ছিল। এ ছাড়া যুদ্ধাহত ও শহীদ হিসেবে ৪২৯ জন, অন্যান্য শ্রেণি-পেশায় ৯ জন, স্থগিত গেজেটের তালিকায় ৮ হাজার ৮৬ জন, ভারতীয় তালিকায় ৫ হাজার ১শ’ জন আবেদন করেছেন।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে কুষ্টিয়ায় সাধারণ ক্যাটাগরিতে অনলাইনে ১ হাজার ৯৬৫টি এবং সরাসরি ৬ হাজার ৬৬৩টি আবেদন ছিল। এ ছাড়া যুদ্ধাহত ও শহীদ হিসেবে ১১৯ জন, অন্যান্য শ্রেণি-পেশায় ৩ জন, স্থগিত গেজেটের তালিকায় ১ হাজার ৭৫ জন, ভারতীয় তালিকায় ১ হাজার ৫ জন আবেদন করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলায় সাধারণ ক্যাটাগরিতে অনলাইনে ১ হাজার ৬১০টি এবং সরাসরি ৬৮টি আবেদন ছিল। এ ছাড়া যুদ্ধাহত ও শহীদ হিসেবে ১৩১ জন, স্থগিত গেজেটের তালিকা ৬২৮ জন, ভারতীয় তালিকায় ৬২৮ জন আবেদন করেছেন। নড়াইল জেলায় সাধারণ ক্যাটাগরিতে অনলাইনে ২ হাজার ৫০১টি এবং সরাসরি ৯৯টি আবেদন ছিল। এ ছাড়া যুদ্ধাহত ও শহীদ হিসেবে ১০ জন, অন্যান্য শ্রেণি-পেশায় ২ জন, স্থগিত গেজেটের তালিকায় ৫৪৮ জন, ভারতীয় তালিকায় ২৭৩ জন আবেদন করেছেন।

বাগেরহাট জেলায় সাধারণ ক্যাটাগরিতে অনলাইনে ৩ হাজার ৬৫৭টি এবং সরাসরি ১৩৪টি আবেদন ছিল। এ ছাড়া যুদ্ধাহত ও শহীদ হিসেবে ২৭ জন, স্থগিত গেজেটের তালিকায় ১ হাজার ৪৯১ জন, ভারতীয় তালিকায় ৫৩৭ জন আবেদন করেছেন। মেহেরপুর জেলায় সাধারণ ক্যাটাগরিতে অনলাইনে ৯৬৩টি এবং সরাসরি ৭৩টি আবেদন ছিল। এ ছাড়া যুদ্ধাহত ও শহীদ হিসেবে ১২ জন, স্থগিত গেজেটের তালিকায় ৫১২ জন, ভারতীয় তালিকায় ৩৩৬ জন আবেদন করেছেন। ঝিনাইদহ জেলায় সাধারণ ক্যাটাগরিতে অনলাইনে ২ হাজার ৬৬২টি এবং সরাসরি ১১০টি আবেদন ছিল। এ ছাড়া যুদ্ধাহত ও শহীদ হিসেবে ১০ জন, স্থগিত গেজেটের তালিকায় ৭৮৬ জন, ভারতীয় তালিকায় ৬৫৯ জন আবেদন করেছেন। খুলনা জেলায় সাধারণ ক্যাটাগরিতে অনলাইনে ১ হাজার ৮৭৫টি এবং সরাসরি ১৬৩টি আবেদন ছিল। এ ছাড়া যুদ্ধাহত ও শহীদ হিসেবে ১৭ জন, স্থগিত গেজেটের তালিকায় ৫৮৯ জন, ভারতীয় তালিকায় ২০৭ জন আবেদন করেছেন।

সাতক্ষীরা জেলায় সাধারণ ক্যাটাগরিতে অনলাইনে ১ হাজার ৮৩৪টি এবং সরাসরি ১৪৩টি আবেদন ছিল। এ ছাড়া যুদ্ধাহত ও শহীদ হিসেবে ৯ জন, অন্যান্য শ্রেণি-পেশায় ১ জন, স্থগিত গেজেটের তালিকা ৭৭৮ জন, ভারতীয় তালিকায় ৪২৫ জন আবেদন করেছেন। মাগুরা জেলায় সাধারণ ক্যাটাগরিতে অনলাইনে ২ হাজার ৫৯৩টি এবং সরাসরি ২২০টি আবেদন ছিল। এ ছাড়া যুদ্ধাহত ও শহীদ হিসেবে ২২ জন, অন্যান্য শ্রেণি-পেশায় ২ জন, স্থগিত গেজেটের তালিকায় ৮৯৯ জন, ভারতীয় তালিকায় ২৯০ জন আবেদন করেছেন। যশোর জেলায় সাধারণ ক্যাটাগরিতে অনলাইনে ১ হাজার ৭৮৯টি এবং সরাসরি ১৪৬টি আবেদন ছিল। এ ছাড়া যুদ্ধাহত ও শহীদ হিসেবে ৭২ জন, অন্যান্য শ্রেণি-পেশায় ১ জন, স্থগিত গেজেটের তালিকায় ৭৮০ জন, ভারতীয় তালিকায় ৭৪০ জন আবেদন করেছেন। সূত্র : মানবকণ্ঠ

Share this...
Share on FacebookPrint this pageShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn



Skip to toolbar