রংপুরের পরিস্থিতি আমাদের অনুকূলে: সিইসি

রংপুরের পরিস্থিতি আমাদের অনুকূলে: সিইসি
Spread the love

এশিয়ানপোস্ট ডেস্ক:

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের অনুকূলে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ ব্রিফিংয়ে একথা তিনি এই কথা বলেন। আগামীকাল রংপুর সিটি করপোরেশনে দ্বিতীয়বারের মতো ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সিইসি বলেন, ‘ভোটের সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমাদের যে অবজারভেশন-পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অনুকূলে রয়েছে। সুন্দর, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোট হবে।’

এই নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দল জাপা কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সন্তোষ প্রকাশের কথাও তুলে ধরেন সিইসি।

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মাত্র একটি কেন্দ্রেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার হওয়ার কথা বললেও শেষ মুহূর্তে তাতেও সংশয় দেখছেন সিইসি। তিনি বলেন, ‘রংপুরে গোটা তিনেক কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। একটি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহারের কথা ছিল। সম্পূর্ণভাবে সিকিউরড হলে তখনই এটা ব্যবহার করা হবে।’

১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৪১ নম্বর কেন্দ্রে নিজেদের তৈরি ইভিএম ব্যবহারের ইতোমধ্যে সবধরনের মহড়া ও প্রচার-প্রচারণা শেষ করে ইসি। এতে ১০-১৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানান ইসি কর্মকর্তারা।

ইসি সূত্র জানায়, নতুন ইভিএমটি ইসির অনেক কর্মকর্তাই এখনো দেখেননি। তবে হুট করে কোনো ধরনের কথাবার্তা ছাড়াই মাঠ পর্যায়ের ভোটে পরীক্ষামূলক এটি ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছেন কর্মকর্তারা।

এক প্রশ্নের জবাবে ইভিএম সম্পর্কে কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘এটা টেকনিক্যাল বিষয়, কারিগরি টিম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। এখনো কনফার্ম করতে পারছি না ইভিএম হবে কি না। শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে তো ব্যবহারের যেতে পারি না। নতুন ইভিএম তো, কাল সকালেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম জানান, রংপুর সিটি নির্বাচনকে আমরা মডেল নির্বাচন করতে চাই। যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে বাড়ি যেতে পারেন সে ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। আগামী সিটি নির্বাচনে যেন আমরা এই মডেল ব্যবহার করতে পারি সে চেষ্টা করছি।

সিইসি জানান, এই নির্বাচনে সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে। নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম, মনিটরিং টিমসহ সংশ্লিষ্ট মাঠে রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এবং ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

এই নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন; ৩৩টি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ২১১ জন এবং ১১টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৬৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রংপুর সিটিতে মোট ভোটার তিন লাখ ৯৩ হাজার ৮৯৪ জন। পুরুষ ভোটার এক লাখ ৯৬ হাজার ২৫৬, নারী এক লাখ ৯৭ হাজার ৬৩৮ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৯৩। ভোটকক্ষ ১১৭৮টি। ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা তিন হাজার ৫৫৯ জন।

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিরাপত্তা বাহিনীর পাঁচ হাজার ৫০০ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে বিজিবি ২১ প্লাটুন (৬৩০ জন), র‌্যাবের ৩৩ টিম (৪০০ জন), পুলিশ ও আনসার সদস্য থাকবে চার হাজার ৪৭০ জন। এছাড়া একজন করে নির্বাহী হাকিমের নেতৃত্বে ৩৩টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, একজন করে বিচারিক হাকিমের নেতৃত্বে ১১টি ভ্রাম্যমাণ আদালত সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।

Share this...
Share on FacebookPrint this pageShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn



Skip to toolbar