আওয়ামী লীগে দ্বিধা-বিভক্তি বিএনপিতে জামায়াত ভীতি

আওয়ামী লীগে দ্বিধা-বিভক্তি বিএনপিতে জামায়াত ভীতি
Spread the love

এশিয়ানপোস্ট ডেস্ক  : দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা) আসনের মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগে দেখা দিয়েছে দ্বিধাবিভক্তি। প্রধান দুই মনোনয়নপ্রত্যাশী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও সাবেক হুইপ মিজানুর রহমান মানুকে ঘিরে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীভীতি তাড়া করছে বিএনপির নেতাকর্মীদের। চিরিরবন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির আফতাব উদ্দিন মোল্লা এই আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন চাইতে পারেন। এ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে দলটির মধ্যে।

এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বর্তমান এমপি আবুল হাসান মাহমুদ আলী, সাবেক এমপি কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মানু, চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ডা. এম আমজাদ হোসেন ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম। এর মধ্যে আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও মিজানুর রহমান মানু আলোচনার পুরোভাগে রয়েছেন।

দু’বারের এমপি আবুল হাসান মাহমুদ আলী আগামী নির্বাচনেও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তার সমর্থকরা সর্বস্তরে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তবে অনেকের অভিযোগ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলাকায় এলেও তার তেমন জনসম্পৃক্ততা নেই।

সাবেক হুইপ মিজানুর রহমান মানু বলেন, আবুল হাসান মাহমুদ আলী জনগণের কাছাকাছি যেতে পারেননি। তিনি জনগণের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বর্তমানের বৃহৎ বাজেটে এই নির্বাচনী এলাকায় আরও অনেক উন্নয়ন করা সম্ভব হতো।

মিজানুর রহমান মানু জানান, তিনি দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন। এর আগে এমপি থাকার সময় চিরিরবন্দর ও খানসামা উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট হলে তিনি দলের মনোনয়ন পাবেন।

জেলার সুপ্রতিষ্ঠিত আমেনা-বাকী রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা. এম আমজাদ হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হই। স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এলাকার উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন তিনি।

অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বর্তমান এমপির সম্পৃক্ততা খুব একটা নেই। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় জনগণকে বিনামূল্যে আইনি সেবা দিয়ে আসছেন।

এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাচ্ছেন সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান মিয়া ও শিল্পপতি হাফিজুর রহমান সরকার। তবে আখতারুজ্জামান মিয়ার বিরুদ্ধে এক সময় সংস্কারপন্থি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একবার দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। মাঝখানে দল থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও সম্প্রতি তিনি দলীয় মনোনয়নের আশায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

আখতারুজ্জামান মিয়া দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বেশ আশাবাদী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের শাসনামলে এই নির্বাচনী এলাকায় যে উন্নয়ন হয়েছে, তা চারদলীয় জোট সরকারের সময়ের চাইতে অনেক কম। আবার বর্তমান সরকারের সময়ে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে অনেকেই রীতিমতো আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন।

লুসাকা গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান সরকারও একবার দলীয় প্রতীক না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। তার পরও তিনি আগামী নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার জন্য ব্যাপক চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন করার ইচ্ছা আছে। যদি দল ও স্থানীয় জনগণ চান, তাহলে এই আসনে প্রার্থী হতে প্রস্তুত রয়েছি।

এই আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) কেন্দ্রীয় নেতা আশরাফ আলী খান জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তিনি বলেন, শুধু প্রতিশ্রুতি দেওয়া নয়, তিনি চান খানসামা ও চিরিরবন্দরবাসীর পাশে থাকতে। এ জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নানাভাবে উন্নয়ন কাজ করে আসছেন। তিনি এই নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া ছড়িয়ে দিতে জাগপার হয়ে ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন চাইবেন।

খানসামা উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আবদুল আলীম হাওলাদারও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বলেন, পল্লীবন্ধু এইচএম এরশাদই এই দেশে উন্নয়নের সূচনা করেছেন। মানুষ তা মনে রেখেছে। তাই আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টিই হবে মূল নিয়ামক শক্তি। সূত্র : সমকাল

Share this...
Share on FacebookPrint this pageShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn



Skip to toolbar