আওয়ামী লীগে মুখের ভিড় বিএনপি মাঠে নিষ্প্রভ

আওয়ামী লীগে মুখের ভিড় বিএনপি মাঠে নিষ্প্রভ
Spread the love

এশিয়ানপোস্ট ডেস্ক  :

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সাতক্ষীরা-১ আসনের নেতাকর্মীরা এখন নির্বাচনমুখী। মহাজোট আসনটি ধরে রাখার ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত হতে চাইছে, সমস্যা আসন ভাগাভাগি নিয়ে।

কারণ সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা অনেক। সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি ও জামায়াত এ আসনে সাংগঠনিকভাবে নিষ্প্রভ; তবে তাদের ইতিবাচক দিক হচ্ছে প্রার্থিতা নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও দৃশ্যমান নেই।

তালা ও কলারোয়া উপজেলা নিয়ে সাতক্ষীরা-১ সংসদীয় আসন। মনে করা হয়, এখানে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক প্রায় সমানে সমান। বিএনপিকে জামায়াতের ওপর ভর করে এবং ওয়ার্কার্স পার্টিকে আওয়ামী লীগের ওপর ভর করে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার কারণে এ আসন জোটনির্ভরও হয়ে পড়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এখানে আওয়ামী লীগের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুত্ফুল্লাহকে প্রার্থী করা হলে নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবিব আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রকৌশলী মুজিবুর রহমানের কাছে পরাজিত হন।

বিএনপি ও জামায়াত হারানো এ আসন পুনরুদ্ধারে গত চার বছরে দলীয় কোনো কার্যক্রম চালাতে পারেনি বা চালায়নি। এ আসনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করবেন—এমন সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকাটি এই মুহূর্তে দীর্ঘ।

তাঁদের মধ্যে আছেন কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ স্বপন, ওয়ার্কার্স পার্টির বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুত্ফুল্লাহ, জেলা আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সরদার মুজিব, তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি প্রকৌশলী শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় পার্টির সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখ্ত, সাবেক প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স ম আলাউদ্দীনের মেয়ে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়লা পারভিন সেজুতি। তবে প্রতিপক্ষ শিবিরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশনা সম্পাদক ও সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নামই শোনা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সংখ্যাটি বেশি হওয়ায় দলীয় কোন্দল মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছে তৃণমূলের অনেকেই। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াতের একক প্রার্থী থাকায় মাঠে সুবিধা আদায় করতে তৎপরতা চালাবে। প্রার্থী বাছাইয়ে দলটিকে বেগ পেতেও হবে না।



২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম। পরে জোটের স্বার্থে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে শরিক দল বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুত্ফুল্লাহকে প্রার্থী করা হয়। নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি জয়লাভ করেন।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের দখলে আসে বিএনপিহীন মাঠে। এবার বিএনপি নির্বাচনে যাবে—তাই ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়া সহজ হবে না। বর্তমান এমপির কাছে উন্নয়ন নিয়ে প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তিরও ঘাটতি আছে অনেক। আসনটি ধরে রাখতে হলে আওয়ামী লীগের ত্যাগী কোনো নেতাকে নির্বাচনে দাঁড় করাতে হবে। কারণ এ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির আগের মতোই সক্রিয় কোনো তৎপরতা নেই। জামায়াত ও বিএনপি জোট থেকে যদি হাবিবুল ইসলাম হাবিব প্রার্থী হন তাহলে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের অনেক হিসাব-নিকাশ করেই প্রার্থী মনোনীত করতে হবে। সাধারণ ভোটারদের ধারণা, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ার পর যদি কেউ বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হন তাহলে আসনটি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের হাতছাড়া হয়ে যাবে।

আওয়ামী লীগের শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুত্ফুল্লাহ বলেন, এলাকার উন্নয়নে তিনি দিন-রাত কাজ করছেন। প্রতিশ্রুতির চেয়ে বহুগুণ কাজ বেশি হয়েছে। তালা-কলারোয়ার আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরীণ কোন্দল আছে স্বীকার করে তিনি বলেন, এর জন্য তিনি দায়ী নন। তিনি বলেন, গত ২০১৪ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগ যতগুলো মামলা নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধে করেছে, তার পরিসংখ্যান করলে বোঝা যাবে যে কারা দলবাজি ও গ্রুপবাজি করে। সম্প্রতি বেতনা নদী খননসহ কয়েকটি খাল পুনর্খননে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এলাকার প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসন করে কৃষি উৎপাদনসহ উন্নয়নের গতি সচল রাখা হবে। এলাকায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ অর্থনৈতিক জোন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। কপোতাক্ষ নদ খননে দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে তিনি সভাসমাবেশ করে জনমত গঠন করে সর্বত্রই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেন।

কলারোয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে অদ্যাবধি তালা-কলারোয়ার সব নেতাকর্মীর সঙ্গে তাঁর আত্মার বন্ধন সৃষ্টি হয়েছে। স্বাধীনতাযুদ্ধের পর এই প্রথম তাঁর নেতৃত্বে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের দলীয় চেয়ারম্যান ও পৌরসভার ১২টি কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। সব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার সুবাদে জেলার মধ্যে তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সুরক্ষা দিতে সক্ষম হয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।

সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ২০০৮ সালে এ আসন থেকে তিনি বিজয়ী হন। তিনি এমপি হওয়ার পর কপোতাক্ষ খননের জন্য ২৬২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ করান। শালিখা নদী খনন করেন, ১৩টি সাইক্লোন শেল্টার ভবন নির্মাণ, পাকা রাস্তা, স্কুল-কলেজের নতুন ভবনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন।

কেন্দ্রীয় সৈনিক লীগের বর্তমান সহসভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক সরদার মজিব বলেন, দশম সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ৩০ হাজার ভোট পান। তিনি বলেন, সে সময়ের নির্বাচন নিয়ে নানামুখী আলোচনা থাকলেও তালা-কলারোয়ার ২৪টি ইউনিয়নে এককভাবে একমাত্র তিনিই নিজস্ব সুদক্ষ কর্মী বাহিনী গড়ে তুলেছেন। দলীয় কর্মকাণ্ডসহ সব সময় তিনি জনগণের পাশে থেকে ব্যক্তি উদ্যোগে তাদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম বলেন, ২০১৪ সালে তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় এবং জাতীয় পার্টি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় জোটের স্বার্থে ওয়ার্কার্স পার্টির দাবিতে নেত্রী সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন; মুস্তফা লুত্ফুল্লাহ মনোনয়ন পান।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখত বলেন, ইতিমধ্যেই তিনি দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অনুমতি নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর দাবি, তিনি মন্ত্রী থাকাকালে তালা-কলারোয়ায় সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে তালা-কলারোয়া থেকে তিনি বিএনপির মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদী। তবে বর্তমান সরকার তাঁকেসহ তাঁর নেতাকর্মীদের একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করে এলাকাছাড়া করেছে। দলটি বর্তমার কোণঠাসা রয়েছে। তারপরও আগামী নির্বাচন যদি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয় তাহলে এ আসনটি বিএনপির দখলে থাকবে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে হঠাৎ মাঠে নেমেছেন সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন। তিনি বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য, সাবেক সভাপতি সাতক্ষীরার ঢাকাস্থ আইনজীবী সমিতি, ঢাকা ও সভাপতি তালা উপজেলা সমিতি, ঢাকা। মোহাম্মদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, সাতক্ষীরা-১ আসনের ভোটাররা তরুণ ও সৎ নেতৃত্ব চায়।

সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জামায়াতের অ্যাডভোকেট শেখ আনছার আলী একবার, জাতীয় পার্টির সৈয়দ দিদার বখত একবার ও বিএনপি প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব দুইবার জয়লাভ করেন। সূত্র কালেরকণ্ঠ

Share this...
Share on FacebookPrint this pageShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn



Skip to toolbar