নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বললেন খালেদা

নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বললেন খালেদা
Spread the love

এশিয়ানপোস্ট ডেস্ক : আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রাম ও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে দলীয় নেতাকর্মীদের আহবান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না। সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

রোববার বিকেলে গুলস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা এ সমাবেশের আয়োজন করে।

নিজেদের অপকর্ম ও দুর্নীতি ঢাকতে সরকার সকলের মুখ বন্ধ করে রাখতে চায় মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, স্বাধীন দেশের মানুষ আজ আওয়ামী লীগের পরাধীনতার শৃঙ্খলায় আবদ্ধ। এ শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেতে আমাদেরকে জেগে উঠতে হবে। কারণ দেশে চলছে এক ব্যক্তির শাসন। উনি যা বলেন তার সবকিছুই নির্দেশ মতো পৌঁছে দেয়া হয়।

বিএনপি প্রধান বলেন, পাকিস্তানীরা যেভাবে আমাদের অধিকার কেড়ে নিয়ে ছিল তারাও (সরকার) এখন পাকিস্তানীদের কায়দায় চলছে। দেশে গণতন্ত্র নেই, নির্বাচন হয় না। ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে দিতে চায় না। তারা ভোটারবিহীন নির্বাচন করে নিজেরাই ব্যালট বাক্সবন্দি করে ঘোষণা দেয়। তাই আমরা দাবি করছি, এই সংসদ ভেঙে দিতে হবে। কারণ এরা নির্বাচিত নয়। এদের অধীনে নির্বাচন হবে না।

খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ কথায় কথায় সংবিধানের কথা বলে অথচ তারাই সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো প্রোগ্রামে দাওয়াত দেওয়া হয় না। মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির কথা শুনলে মাথা খারাপ হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, স্বাধীনতার ঘোষণা কে দিয়েছিল শুনলে হীনমন্যতায় ভোগে। সব সময় সত্য গোপন করতে চায়। যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই গুম খুন বিচারবহির্ভূতভাবে মানুষ হত্যা করে। যা এখনও অব্যাহত আছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালে বলেছিল সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রক্ষায় তারা নির্বাচন করছে, খুব শিগগিরই নির্বাচন দেবে। আর এই শিগগির নমুনা কী এই যে নির্বাচনের আন্দোলন করতে গিয়ে আমাদেরকে গুম খুন করছে। একটি কথা স্পষ্ট সকল গুম খুনের সাথে জড়িত সরকার। এর জবাব দিতে হবে। তাই আমরা দাবি করছি, আমরা নির্বাচন চাই। শান্তি চাই, সংঘাত চাই না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসতে চাই আওয়ামী লীগের মতো বিনাভোটে নয়।

আওয়ামী লীগ জুডিশিয়ারী কু করেছে এরা অপরাধী, এদের শাস্তি হওয়া উচিত দাবি করে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে বলে প্রধান বিচারপতিকে ছুটিতে বাধ্য করেছে। শুধু তাই নয়, ছুটিতে পাঠিয়েও স্তস্তি পায়নি তাই দেশে ছাড়তে বাধ্য করেছে পরবর্তীতে ইস্তফা দিয়েছে। কারণ প্রধান বিচারপতি ছুটিতে যেতে চাননি, চাননি দেশ ছাড়তে এবং ইস্তফা দিতে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ দিন দিন বন্ধুহীন হয়ে পড়ছে। শিক্ষিত বেকার তৈরি হচ্ছে। বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দেশের লোক কাজ পাচ্ছে না, বাইরের লোক টাকা নিয়ে যাচ্ছে। যারা বিদেশে আছে তারা দেশে ফিরে অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছে না। দেশের জনগণকে বিভিন্নভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে। কারো শান্তিতে থাকার সুযোগ নাই। সকল সুফল ভোগ করছে আওয়ামী লীগ ও তার লোকেরা। অথচ দেশের মানুষ চায় পরিবর্তন। দেশের মানুষ চায় এই সরকারের হাত থেকে মুক্তি।

এসময় বিএনপিকে সভা সমাবেশ করতে সুযোগ দিতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ভারতের প্রশংসা করে খালেদা জিয়া বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের যেমন অবদান আছে তেমনি প্রতিবেশী ভারতেরও অবদান আছে। ভারত আমাদেরকে আশ্রয় দিয়ে সাহায্য সহযোগিতা করেছে। সেজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে বক্তব্যে দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম,

এছাড়াও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরীক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম এবং মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতারা।

এর আগে বিকেল ৪ টা ২৫ মিনিটে তিনি সমাবেশ স্থলে পৌঁছান।

বিকেল ৩ টা ২৫ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শরু ‍হয়।

দীর্ঘদিন ধরেই মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সমাবেশ করতে পারেনি বিএনপি।

সর্বশেষ ২০১৪ সালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশে বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া।

লন্ডনে চিকিৎসা শেষে সম্প্রতি দেশে আসেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এরপর থেকেই তিনি নিয়মিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় হাজিরা দিচ্ছেন।

এরই মধ্যে দীর্ঘ দেড় বছর পর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি পায় বিএনপি। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গত ১২ নভেম্বর সেই সমাবেশে বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া।

Share this...
Share on FacebookPrint this pageShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn



Skip to toolbar