Search
Sunday 21 January 2018
  • :
  • :

‘বৈষম্যে’ শিক্ষকরা হোঁচট শিক্ষায়

‘বৈষম্যে’ শিক্ষকরা হোঁচট শিক্ষায়
Spread the love

এশিয়ানপোস্ট ডেস্ক : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭

শরীফুল আলম সুমন   : নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে আর মাত্র সাত দিন বাকি। এই সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা শিক্ষকদের।

এ ছাড়া নতুন বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জানুয়ারি বই উৎসব। উপজেলা থেকে বই স্কুলে নেওয়া, তা সেট করে সাজিয়ে রাখাসহ নানা কাজ শিক্ষকদের সামনে। কিন্তু এসব ফেলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা ছুটছেন ঢাকার দিকে। বেতনবৈষম্য নিয়ে আন্দোলনে রয়েছেন দেশের ৬৪ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাড়ে তিন লাখ শিক্ষক। ওই বৈষম্য নিরসন নিয়ে সরকারের সামনেও দেখা দিয়েছে জটিল সমীকরণ। ফলে সব মিলিয়ে হোঁচট খেতে যাচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা। অচিরেই সমস্যার সমাধান না হলে এর প্রভাব পড়বে নতুন শিক্ষাবর্ষে।

প্রাথমিক শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে কোনো বেতনবৈষম্য ছিল না। তবে ১৯৭৭ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেলে এক ধাপ পার্থক্য তৈরি হয়।

সহকারী শিক্ষকরা সেটি মেনেও নিয়েছিলেন। কিন্তু ২০০৬ সালে এসে দুই ধাপ পার্থক্য তৈরি হয়। এরপর ২০১৪ সালে প্রধান শিক্ষকদের পদমর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হলে পার্থক্য বেড়ে দাঁড়ায় তিন ধাপে। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। আর সহকারী শিক্ষকরা পড়ে আছেন ১৪তম গ্রেডেই।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের পদ দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করায় তাঁদের বেতন স্কেল দশম গ্রেডে নেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। আর সেটি বাস্তবায়িত হলে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেডে চার ধাপ পার্থক্য তৈরি হবে। এটি নিয়েও চিন্তিত সহকারী শিক্ষকরা।

প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে বেতন ও গ্রেড বৈষম্য কমানোর দাবিতে গত শনিবার থেকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েক হাজার সহকারী শিক্ষক।

চব্বিশ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অনশনে থাকার কারণে গতকাল রবিবার সকালে বেশ কয়েকজন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষকরা।

শিক্ষকদের আন্দোলনের বিষয়ে গতকাল নীলফামারীতে এক অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বর্তমান সরকারের কাছে মৃত্যুঝুঁকির কথা বলে কেউ কোনো দাবি আদায় করতে পারেনি। তবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। বর্তমান সরকারের প্রতি শিক্ষকদের ভরসা রাখতে হবে। ’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নজরুল ইসলাম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা চাই প্রাথমিক শিক্ষায় পরিবর্তন আসুক, এই পেশায় যেন দক্ষ-মেধাবীরা আসে। আর মন্ত্রণালয়ও শিক্ষকদের সম্মানজনক বেতন-ভাতা দিতে চায়। সহকারী শিক্ষকদের বেতনবৈষম্যের বিষয়টি মন্ত্রণালয়েরও বিবেচনায় আছে। কিন্তু এ জন্য আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন নেই। আমি অনুরোধ করব শিক্ষকরা যেন ঘরে ফিরে যান। কারণ এই সরকারের সময়েই প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সকলেরই বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ’

জানা যায়, ১৯৭০ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক উভয়েই ১৩৫ টাকা করে মূল বেতন পেতেন। তবে প্রধান শিক্ষকরা কার্যভার ভাতা হিসেবে ১০ টাকা বেশি পেতেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করেন। এর পরও ১৯৭৭ সাল নাগাদ প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক উভয়েই ২৩০ টাকা হারে মূল বেতন পেতেন। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা ১৬তম গ্রেডে ৪৩০ টাকা মূল বেতন আর সহকারী শিক্ষকরা ১৭তম গ্রেডে ৪০০ টাকা হারে মূল বেতন পেতেন। এরপর ১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বেতন পেতেন ১৬তম গ্রেডে (মূল বেতন ৭৫০ টাকা) এবং একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক বেতন পেতেন ১৭তম গ্রেডে (মূল বেতন ৬৫০ টাকা)। পরে ২০০৫ সাল পর্যন্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ১৬তম গ্রেডে তিন হাজার ১০০ টাকা মূল বেতন এবং সহকারী শিক্ষক ১৭তম গ্রেডে তিন হাজার টাকা মূল বেতন পেতেন। কিন্তু ২০০৬ সালে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে তিন হাজার ৫০০ টাকা এবং সহকারী শিক্ষকদের ১৫তম গ্রেডে তিন হাজার ১০০ টাকা মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়। এতে বৈষম্য সৃষ্টি হয় দুই ধাপ।

২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন ও পদমর্যাদা বাড়ানোর ঘোষণা দেন, যা কার্যকর হয় ২০১৩ সাল থেকে। তখন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদাসহ নির্ধারণ করা হয় ১১তম গ্রেডে ছয় হাজার ৪০০ টাকা এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে ১৪তম গ্রেডে পাঁচ হাজার ২০০ টাকা। এ সময় মূল বেতনের ব্যবধান দাঁড়ায় এক হাজার ২০০ টাকা। ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা হলে সে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে দুই স্কল ৩০০ টাকায়। এখন একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ টাকা এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক ১৪তম গ্রেডে ১০ হাজার ২০০ টাকা (মূল বেতন) পান। তবে প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক উভয়েই বেতন পান ১৫তম গ্রেডে।

জানা যায়, ২০১৪ সালে যখন উভয় শিক্ষকের বেতন গ্রেডে তিন ধাপ দূরত্ব তৈরি হয় তখনই আন্দোলনে নামেন সহকারী শিক্ষকরা। মানববন্ধন, সমাবেশ, কর্মবিরতিসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁরা। এমনকি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে তাঁরা একাধিকবার এ নিয়ে বৈঠকও করেছেন। তাতে কোনো ফল না হওয়ায় গত শনিবার থেকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপিও দিয়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা স্কুলে ফিরবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। সহকারী শিক্ষকদের পাঁচটি সংগঠনের সমন্বয়ে বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের ব্যানারে এই আন্দোলন চলছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সহকারী শিক্ষকদের এই আন্দোলনের ফলে তাঁদের জটিল সমীকরণের মধ্যে পড়তে হয়েছে। বর্তমানে ৬৪ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৪ হাজার প্রধান শিক্ষক কর্মরত, যাঁদের প্রায় অর্ধেকের চাকরির বয়স ২০১৫ সাল পর্যন্ত আট বছর পূর্ণ হয়নি। ফলে তাঁদের টাইম স্কেল পাওয়ার সুযোগ ছিল না। কিন্তু বাকি প্রায় ২০ হাজারের মতো শিক্ষকের তিনটি পর্যন্ত টাইম স্কেল পাওনা ছিল। সম্প্রতি তা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে ওই ২০ হাজার প্রধান শিক্ষকের কেউ অষ্টম গ্রেডে, কেউ নবম বা দশম গ্রেডে চলে গেছেন। প্রায় ৫০ শতাংশ প্রধান শিক্ষক যেহেতু দশম গ্রেডে গেছেন তাই বাকিদেরও গ্রেড উন্নীত করে দশম গ্রেডে নেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকেও এখন যাঁরা নন-ক্যাডার দ্বিতীয় শ্রেণিতে যেতে আগ্রহী তাঁদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) থেকে। কিন্তু পিএসসি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরির জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত অন্য সবাই দশম গ্রেডে যোগদান করতে পারলেও যাঁরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হচ্ছেন তাঁদের যেতে হচ্ছে ১১তম গ্রেডে। এ বৈষম্যও নিরসন করতে চায় মন্ত্রণালয়ও। প্রধান শিক্ষকদের এ সমস্যা নিরসন করলে সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে তাঁদের ব্যবধান বেড়ে চার ধাপ হবে। অথচ প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে বেতন স্কেল চাইছেন সহকারী শিক্ষকরা। ফলে সব মিলিয়ে কঠিন সমীকরণে পড়েছে মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি তপন কুমার মণ্ডল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সময়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের মধ্যে বেতন স্কেলের ব্যবধান না থাকলেও বর্তমানে তিন ধাপ ব্যবধানে পরিণত হয়েছে। ১৬ বছর চাকরির পর একজন প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকের বেতনের ব্যবধান হবে ভাতাসহ প্রায় ২০ হাজার টাকা। বর্তমানে একজন প্রধান শিক্ষক যে স্কেলে চাকরি শুরু করেন একজন সহকারী শিক্ষক সেই স্কেলে চাকরি শেষ করেন, যা সহকারী শিক্ষকদের জন্য চরম বৈষম্য। আমরা এ বৈষম্যের অবসান চাই। ’

অনশন কর্মসূচিতে আসা সুনামগঞ্জ সদরের শাখাইতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দেবব্রত মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উপবৃত্তির কাজ করেন সহকারী শিক্ষকরা। ভোটার তালিকাসহ নানা প্রশাসনিক কাজ আমাদেরই করতে হয়। অথচ সম্মানী পান প্রধান শিক্ষকরা। একটি স্কুলে প্রধান শিক্ষকের চেয়ে সহকারী শিক্ষকের দায়িত্ব অনেক বেশি। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা করানোর পাশাপাশি অন্যান্য কাজও করতে হয়। অথচ প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে আমাদের বেতন গ্রেডের পার্থক্য তিন ধাপ। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ’

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, ‘বেতনবৈষম্য নিরসনের জন্য আমরা চার বছর ধরে বলে আসছি। নানা কর্মসূচিও পালন করেছি; কিন্তু মন্ত্রণালয় এতে কোনো কর্ণপাত করেনি। আমরা শিক্ষার্থীদের বিপদে ফেলতে চাই না। বেশির ভাগ স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষার ফল দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে যারা দিতে পারেনি তারা অনশনে থাকায় দিতে পারছে না। আর আমাদের পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে গেছে তখন বই উৎসব করব কিভাবে? আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুল ছুটি। আমরা চাই, এর মধ্যেই সরকার আমাদের দাবি মেনে নিয়ে প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে সহকারী শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ করুক। আমরা যাতে যথাসময়েই ক্লাসে ফিরে যেতে পারি, অংশ নিতে পারি বই উৎসবে। কিন্তু দাবি না মানলে আমরা ঘরে ফিরে যাব না। ’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন ছিল পিয়নের মতো। শেখ হাসিনার সরকার সেখান থেকে তাঁদের মুক্তি দিয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো হয়েছে এটা ভালো; কিন্তু সহকারী শিক্ষকদের বেতনবৈষম্য থাকাটা আবার ভালো নয়। আমি মনে করি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক একই মর্যাদার হওয়া উচিত। তবে তাঁদের বেতনে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে। ’

জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির এই সদস্য প্রস্তাব রেখে বলেন, ‘শিক্ষকদের পদগুলো ব্লক পোস্ট। তাঁদের পদোন্নতির সুযোগ রাখতে হবে। ক্যারিয়ার পাথ রাখতে হবে, যেটা প্রাথমিক শিক্ষকদের নেই। কারণ সহকারী শিক্ষকদের অনেককেই একই পদে থেকে চাকরি শেষ করতে হবে। শিক্ষকদের এন্ট্রি যদি জুনিয়র শিক্ষক দিয়ে হতো; এরপর সহকারী শিক্ষক, সিনিয়র শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, উপজেলা ও জেলা থানা শিক্ষা অফিসার থেকে মহাপরিচালক পর্যন্ত পদোন্নতির সুযোগ থাকত তাহলে কিন্তু এই আন্দোলন হতো না। শিক্ষকরা পদোন্নতি পেতেন, তাঁদের বেতনও বাড়ত। কখনোই বৈষম্য তৈরি হতো না। সরকারের এ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে ভাবা উচিত। ’

Share this...
Share on FacebookPrint this pageShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn



Skip to toolbar