আকাশে সংঘর্ষের পর দুই প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত অক্ষত আছেন চার পাইলট

আকাশে সংঘর্ষের পর দুই প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত অক্ষত আছেন চার পাইলট
Spread the love

এশিয়ানপোস্ট ডেস্ক :

মহেশখালীতে বিমানবাহিনীর দুইটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধ বিমান সংঘর্ষের পর বিধস্ত হয়েছে। একটি বিমানে আকাশেই আগুন ধরে যায়। তবে বিমান দুটির চার পাইলট অক্ষত রয়েছেন। এর মধ্যে একটি বিমান মহেশখালীর পুটিবিলার ইয়ার মোহাম্মদ পাড়ার আব্দুল কাদেরের রান্নাঘরে পড়ে। অপর বিমানটি ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের লম্বাগোনা কম্বনিয়া পাহাড়ি এলাকার একটি পানের বরজের ওপর বিধস্ত  হয়। বিধবস্ত হওয়া স্থান দুটির মধ্যে গড়ে ৫ কিলোমিটার দূরত্বের পার্থক্য রয়েছে।  গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার আগেই দুই বিমানের চার জন পাইলট নিরাপদে অবতরণ করেছে বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) নিশ্চিত করেছে। খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিসের দল এবং পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

 

সূত্র জানায়, দুই বিমান বিধস্ত হওয়ার ৫০ মিনিট আগে চট্টগ্রামের বিমান বাহিনীর জহরুল হক ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়ন করার পর বিমান দুটি ওই টাওয়ারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ৫০ মিনিট পরে বিমান দুটির সাথে রাডারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।  দুই বিমানে পাইলট ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন শরীফ মোস্তফা, উইং কমান্ডার আজিম, উইং কমান্ডার রাজিব ও স্কোয়াড্রন লিডার মনির হোসেন। রাশিয়ার তৈরি এই যুদ্ধ বিমান দুইটি দুই বছর আগে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে প্রশিক্ষণের জন্য যুক্ত হয়। এর আগে দুই মাস আগে কক্সবাজারে ইয়াক-১৩০ মডেলের আরো একটি যুদ্ধ বিমান বিধস্ত হয়েছিল।

 

কুতুগজোম খন্দকার পাড়ার একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সন্ধ্যা ৬ টা ৫০ মিনিটের দিকে আকাশে বিকট শব্দে আগুনের কুন্ডলী দেখতে পান। তা খুব দ্রুত নিচে নেমে মাটিতে বিধস্ত হয়। ইয়ার মোহাম্মদ পাড়ার আব্দুল কাদেরের রান্নাঘরে আগুনের কুন্ডলী আকারে বিমানটি বিধস্ত হয়। বিধস্ত হওয়া বিমান দুইটির কোন একটির বিমানের দুইটি অংশ শহীদুল্লাহ মাঝির বাড়িতে পড়ে। পুটিবিলার দাসি মাঝি পাড়ার নবী হোসেনের ঘরের ছাউনির ওপর ছোট্ট দুইটি অংশ পড়ে। চারদিকে মানুষের মধ্যে আতংক শুরু হয়। এদের মধ্যে ৫ কিলোমিটার দূরে কম্বনিয়া পাহাড়ি এলাকায় আরো একটি বিমান বিধ্বস্তের খবর তারা পান। চারদিক থেকে গ্রামবাসি ছুটে আসেন।

 

ঘটনার খবর পেয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রতন দাস গুপ্ত, মহেশখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা  মো: আবুল কালাম, মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ছুটে আসেন।

 

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মহেশখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে একটি ইউনিট গিয়ে আগুন নেভায়।  আইএসপিআর’র পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদুল হাসান  বলেন, দুটি (ইয়াক-১৩০) বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। দুটি বিমানে চার জন পাইলট ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় বিমান দুটি রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। তাই দুর্ঘটনার কারণ জানা যাচ্ছে না। চার পাইলট নিরাপদে আছেন।

 

মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস সন্ধ্যায় বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে এসে কেবল আগুন জ্বলতে দেখছি। দূর থেকে একটি বিমানের অর্ধেক দেখা যায়। আর কিছু দেখা যাচ্ছে না। ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে।’
কক্সবাজার বিমানবন্দরের ম্যানেজার সাধন কুমান মোহন্ত জানান, ‘আমরা দুর্ঘটনার খবর জেনেছি।
মহেশখালীর গোরকঘাটা এলাকার এক বাসিন্দা জানান,  সন্ধ্যার পর তারা বিকট একটি শব্দ শোনেন। এর পরপরই পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান সরওয়ার আজমের বাড়ির পেছনে খালি জায়গায় আগুন জ্বলে উঠতে দেখা যায়। আগুন দেখে ও শব্দ শুনে বিপুল সংখ্যক মানুষ সেখানে ভিড় করেন। ফায়ার সার্ভিসের মহেশখালী ইউনিটের সদস্যরাও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন  নেভানোর কাজ শুরু করেন।
Share this...
Share on FacebookPrint this pageShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn



Skip to toolbar