আ. লীগে ‘রিমনবিরোধী’ অনেকে বিএনপিতে দুই ‘মহারথী’

আ. লীগে ‘রিমনবিরোধী’ অনেকে বিএনপিতে দুই ‘মহারথী’
Spread the love

এশিয়ানপোস্ট ডেস্ক :  বরগুনা-২ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে ক্ষমতা ও পাওয়া না-পাওয়াকেন্দ্রিক অভ্যন্তরীণ সমস্যা আগে থেকেই ছিল। নতুন করে যোগ হয়েছে একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মনোনয়ন দ্বন্দ্ব।

তিন উপজেলা (বামনা, বেতাগী ও পাথরঘাটা), দুই পৌরসভা ও ১৯ ইউনিয়ন নিয়ে বরগুনা-২ আসনটি জাতীয় সংসদের ১১০ নম্বর আসন। ২০১৩ সালের ২৬ জুলাই মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় এ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম সবুর টুলুর মৃত্যুর পর শোকগ্রস্ত পরিবারের কেউ উপনির্বাচনে অংশ নেননি। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত হাচানুর রহমান রিমন। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে পুনর্নির্বাচিত হন তিনি। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছেন একাধিক নেতা, যাঁদের মধ্যে টুলুর মেয়ে রুমকীও রয়েছেন। এ আসনে বিএনপি থেকে দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের পাশাপাশি রয়েছেন একাধিকবার এমপি নির্বাচিত হওয়া ‘ক্যারিসমেটিক’ নেতা নূরুল ইসলাম মণি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় না থাকলেও ভোটারদের মধ্যে তাঁর একটি শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে বলে মনে করেন বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ।আওয়ামী লীগ : একাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন লাভের দৌড়ে শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বিপরীতে প্রয়াত গোলাম সবুর টুলুর বড় মেয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফারজানা সবুর রুমকীর নাম এখন আলোচনায় রয়েছে। রুমকী সমর্থক নেতাকর্মীরা বলছেন, গোলাম সবুর টুলু তাঁর সততা ও ন্যায়নিষ্ঠতার কারণে জনপ্রিয় ছিলেন।

টুলুর অবর্তমানে তাঁর মেয়েই মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে মনে করছে রুমকীর সমর্থকরা। এ ছাড়া বরগুনা পৌরসভা থেকে দু-দুবার নির্বাচিত (বর্তমান) মেয়র ধনাঢ্য ব্যবসায়ী মো. শাহাদাত হোসেন এবং কেন্দ্রীয় যুবলীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক সুভাস চন্দ্র হাওলাদার বরগুনা পৃথক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন মনোনয়ন লাভের আশায়। মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় আরো যাঁদের নাম আলোচনায় রয়েছে তাঁরা হলেন সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও বামনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট হারুন আর রশীদ, বামনা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি সাইতুল ইসলাম লিটু মৃধা এবং পাথরঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রিপন। তবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক না কেন একজোট হয়ে সবাই তাঁর পক্ষেই মাঠে নামবেন—এমনটাই ব্যক্ত করেছেন এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সব নেতা।



রুমকী কালের কণ্ঠকে বলেছেন, তাঁর বাবা এ আসনের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য ছিলেন। তাঁর ধ্যান-জ্ঞান ছিল বামনা পাথরঘাটা ও বেতাগীবাসীর উন্নয়ন ভাবনা। স্থানীয় পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের পাশাপাশি যাতায়াত ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নে শতভাগ সততার সঙ্গে অনেক ভূমিকা রেখেছেন গোলাম সবুর টুলু। বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন আর অর্ধ সমাপ্ত নানামুখী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে রুমকী কাজ করতে চান।

এ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশী বরগুনা সদর পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রথমবার নির্বাচিত হয়ে তিনি বরগুনা পৌরসভার উন্নয়নে সম্ভব সব উন্নয়ন প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন। যার প্রতিদান হিসেবে বরগুনা পৌরবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে দ্বিতীয়বারের মতো তাঁকে নির্বাচিত করেন। দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি বরগুনা পৌরবাসীর সেবায় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বরগুনা পৌরবাসীর কল্যাণে আমৃত্যু কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি আরো বলেন, নিজ এলাকা বামনা, পাথরঘাটা ও বেতাগীবাসীর ভাগ্যের উন্নয়নেও তিনি কাজ করতে চান।

বিএনপি : মাঠপর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা এখানে ভালো নয়। কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের সঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতি, সম্পাদকসহ একটি বড় অংশের টানাপড়েন চলছে।   খন্দকার মাহবুব হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু হয়, নিরপেক্ষ হয় এবং জনগণ যাতে ভোট দিতে পারে সেই ধরনের একটি সহায়ক সরকারের অধীনে যদি নির্বাচন হয় তবে সে নির্বাচনে আমরা জয়লাভ করব। ’ পাশাপাশি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মণি, জিয়া শিশু একাডেমির মহাপরিচালক বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এম হুমায়ুন কবীর, কেন্দ্রীয় যুব নেতা ও বরগুনা জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান মনির, সুপ্রিমকোর্টের জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছগির হোসেন লিয়ন এবং বেতাগী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান কবীরের নাম আলোচনায় রয়েছে। তিন-তিনবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মণির মনোনয়ন পেতে পারেন—এমন গুঞ্জনও দলে প্রবলভাবে রয়েছে।

এ আসনে বিভিন্ন সময়ে দল বদলিয়ে একাধিকবার সংসদ সদস্য হওয়ার রেকর্ড রয়েছে গোলাম সরোয়ার হিরুর। বর্তমানে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের নেতা হিরু দল থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এমপি রিমন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেছেন, তিনি সাংগঠনিক দক্ষতা বলে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পরে উপজেলা চেয়ারম্যান, সর্বশেষ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সততার ‘পুরস্কারস্বরূপ’ ৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন এলাকার উন্নয়নে। সমালোচকদের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য—‘প্রতিযোগিতা ভালো, প্রতিহিংসা ভালো না। ’ কালেরকণ্ঠ

Share this...
Share on FacebookPrint this pageShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn



Skip to toolbar