Search
Wednesday 17 January 2018
  • :
  • :

জাল রুপির কারবারে জড়িত ২৪৭টি চক্র

জাল রুপির কারবারে জড়িত ২৪৭টি চক্র
Spread the love

এশিয়ানপোস্ট ডেস্ক :  জাল রুপির কারণে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ভারত সফরকারী বাংলাদেশিরা। আর এই জাল রুপির কারবারে জড়িত রয়েছে বাংলাদেশের ৪৬টি ও ভারতের ২০১টি চক্র। এ তথ্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাওয়া। আর জাল রুপির আগ্রাসন ঠেকাতে সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও ভারত জালনোট সংক্রান্ত যৌথ টাস্কফোর্সের বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, জাল রুপির ঘটনায় শতাধিক মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।

 

সিআইডি পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, ভারতীয় জাল রুপির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভারত সফরকারী বাংলাদেশিরা। বিশেষ করে বেনাপোলসহ বিভিন্ন স্থল বন্দর থেকে প্রায়ই অভিযোগ পাওয়া যায় যে তারা সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতীয় রুপি সংগ্রহ করেন। পরে ভারতে যাওয়ার পর কেনাকাটা করতে গিয়ে বুঝতে পারেন তাদের সংগ্রহ করা রুপি  জাল। কিন্তু এ নিয়ে কারো কাছে অভিযোগ জানানো বা প্রতিকার পাওয়ার মতো কোনো সুযোগ নেই। শেষে তারা ক্ষতি মেনে নিতে বাধ্য হন। তবে দেশে ফেরার পর তারা অন্যদের কাছে তাদের ‘ঠকার’ গল্প শোনান। এখানেই জাল রুপি গল্প শেষ। আর এ গল্প শুনে অনেকেই ভারতীয় রুপি সংগ্রহ করার পর একটা আশঙ্কায় ভোগেন।
তিনি আরো বলেন, এক সময় ভারতীয় জাল রুপির বড় চালান আসতো পাকিস্তান থেকে। গত কয়েক বছরে হযরত শাহজালাল বিমান বন্দরে ভারতীয় জাল রুপিসহ গ্রেফতার হয়েছেন পাকিস্তানি নাগরিক। পাকিস্তান থেকে আসা জাল রুপি এতোটাই নিখুঁত যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও (যারা জাল রুপি নিয়ে কাজ করছেন)  চিনতে কষ্ট হতো। কিন্তু বছর খানেক আগে ভারত সরকার পাঁচশত ও এক হাজার রুপির পুরনো নোট বাতিল করে। ফলে জাল রুপি চোরাচালানিরা বিপাকে পড়ে যায়। তবে পরবর্তীতে নতুন রুপি জাল করতে কয়েকটি চক্র সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
কয়েক মাস আগে যশোর এলাকায় ভারতীয় জাল রুপিসহ একটি চক্রকে গ্রেফতার করে স্থানীয় থানা পুলিশ। ওই চক্রটি বর্তমানে যশোর কারাগারে রয়েছে। আসামিদের পর্যাপ্ত রিমান্ড না হওয়ায় তাদের ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেনি সিআইডি। তবে তাদের পুনরায় রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দুজন ভারতীয় নাগরিক। অন্যরা বাংলাদেশের। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, ভারত থেকেই তারা জাল রুপি সংগ্রহ করে সীমান্ত পথে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। বাংলাদেশে আনার পর তারা সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জ দোকানে (অবৈধভাবে গড়ে ওঠা) বা দালালদের মাধ্যমে সেই রুপি বিক্রি করে থাকে। তবে মানি এক্সচেঞ্জের লোকজন জাল টাকা বিক্রি করতে গিয়ে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করে থাকে। যারা বেশি টাকা পরিবর্তন করে তাদের বান্ডিলের (রুপির) মধ্যে দু-চারটি করে ঢুকিয়ে দেয়।
এ অবস্থা থেকে রেহাই পেতে সীমান্ত এলাকার বৈধ মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান থেকে ভারতীয় রুপি ক্রয় করার পরামর্শ দিয়েছেন সিআইডির এ কর্মকর্তা। তার মতে, এরকম হলে ঠকার সম্ভাবনা কম থাকবে।
বাংলাদেশ ও ভারত জালনোট সংক্রান্ত যৌথ টাস্কফোর্সের বৈঠকে উপস্থিত পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, সেখানে জাল রুপি ঠেকানোর ব্যাপারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জাল রুপি পাচারের সঙ্গে জড়িত এমন ৪৬ জনের একটি তালিকা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অপর দিকে ভারতীয় প্রতিনিধি দল ২১০ জনের একটি তালিকা বাংলাদেশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। পাশাপাশি জাল রুপির মামলাগুলোর (প্রায় পাঁচ শতাধিক) সর্বশেষ কী অবস্থা সে ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়েছে ভারতীয় প্রতিনিধি দল। এ ছাড়া আগামীতে জাল রুপি আটকের ঘটনা ঘটলেই উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা (যারা জাল রুপি নিয়ে কাজ করছেন) যাতে দ্রুত যোগাযোগ করতে পারেন সে জন্য মোবাইল ফোন নম্বর সরবরাহ করা হয়।
শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মঈনুল খান বলেন, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে চট্টগ্রামে নৌবন্দরে কন্টেইনার থেকে ২ কোটি ৭১ লাখ ৫০০ ভারতীয় জাল রুপি আটক করা হয়েছিল। ওই মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। তিনি বলেন, দুবাই কেন্দ্রিক একটি সিন্ডিকেট এর সঙ্গে জড়িত ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি।
তিনি আরো বলেন, ভারত সরকার এক হাজার ও পাঁচশ রুপির পুরনো নোট বাতিল করার পর থেকে জাল রুপির কোনো চালান আটক হয়নি। নতুন করে জাল রুপির কিছু কিছু তথ্য আমাদের কাছে আসছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে অনুসন্ধান করছি।
ওই মামলার তদন্তে সংশ্লিষ্ট সিআইডির এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, জাল রুপির মামলায় কয়েকজনকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। মূল হোতাকেও শনাক্ত করা গেছে। তাকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
জালনোট সংক্রান্ত যৌথ টাস্কফোর্সের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বদানকারী ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) রৌশন আরা বেগম বৈঠকের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে তিনি বলেন, বৈঠকে জাল নোটের উত্স চিহ্নিত করা এবং জাল নোট তৈরি ও বিতরণকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য উভয় দেশের প্রতিনিধিরা সম্মত হয়েছেন।
অপর দিকে গত ২৫ ডিসেম্বর পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভারতীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান এনআইএ’র আইজি অনিল শুক্লা বলেন, উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য অপরাধ দমনে আমরা যৌথভাবে কাজ করবো। এতে জাল নোট বন্ধসহ অনেক অপরাধ দমন করা সহজ হবে।
উল্লেখ্য, ওই সভায় উভয় দেশের ২৬ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। সূত্র : ইত্তেফাক
Share this...
Share on FacebookPrint this pageShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn



Skip to toolbar