রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট , তুর্কোমানের ষাঁড়

রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ,     তুর্কোমানের ষাঁড়
Spread the love

এশিয়ানপোস্ট ডেস্ক : ষাঁড় দিয়ে জমি চাষ হয়। আবার ষাঁড় দিয়ে অন্যের ক্ষেত নষ্ট হয়। নাসিরুদ্দিন হোজ্জার প্রতিবেশী ছিলেন তুর্কোমান। তার ষাঁড়ও একদিন হোজ্জার গোছানো বাগানে ঢুকে লাফিয়ে-দাপিয়ে নষ্ট করে ফেলে। হোজ্জা সেদিন বাগান নষ্ট করা ষাঁড়কে তুর্কোমানের ষাঁড় বলেছিলেন। নাসিরুদ্দিন হোজ্জার সেই গল্প ধীরে ধীরে বিবর্তিত হতে হতে গ্রামবাংলার লোকমুখে ক্ষেত নষ্ট করা তুর্কোমানের ষাঁড়ের আখ্যা পায়।

দেশের পুঁজিবাজারে বহুমাত্রিক প্রডাক্ট না থাকায় মিউচুয়াল ফান্ড বাজারে মোড় ঘোরাবে বলে মনে করেছিলেন অনেকেই। বাজারের ভাবমূর্তি বাড়বে বলেও আশা করেছিলেন সবাই। কিন্তু লাফিয়ে-দাপিয়ে মিউচুয়াল ফান্ডের ভাবমূর্তি নষ্ট ও বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করা ছাড়া বাজারকে কিছুই দিতে পারেনি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট। অথচ মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড বাজারের ৫০ শতাংশের বেশি সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছে রেস। তাদের ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিনিয়োগ রয়েছে এক ডজন ব্যাংকেরও।

সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিটির পুরো কার্যক্রমেই রয়েছে স্বচ্ছতার অভাব। অস্বচ্ছতার পাশাপাশি অব্যবস্থাপনায় পুরো খাতটিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলেছে চৌধুরী নাফিজ সারাফাত ও হাসান তাহের ইমামের রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট। দুজনই আবার ইউনিট ফান্ডের প্রতিনিধি হিসেবে ফারমার্স ব্যাংকের পরিচালক ছিলেন।

মিউচুয়াল ফান্ড ইন্ডাস্ট্রির হালনাগাদ পারফরম্যান্স চিত্রে দেখা যায়, ব্যবস্থাপনাধীন মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর সম্পদ প্রবৃদ্ধি, লভ্যাংশ ও ইউনিটহোল্ডারদের রিটার্নে ক্রমেই পিছিয়ে যাচ্ছে রেস। ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এনএভি রিটার্ন হিসাব করলে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ছিল ৩ নম্বরে। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সময়ের রিটার্নের ভিত্তিতে তারা নেমে আসে ৪-এ। ২০১৬ সালের রিটার্ন টেবিলে আরেক ধাপ পিছিয়ে তাদের অবস্থান হয় ৫ নম্বরে।

গত সপ্তাহ পর্যন্ত হালনাগাদ উপাত্তে রেসের ফান্ডগুলোতে বিনিয়োগে ইউনিটহোল্ডারদের প্রকৃত লভ্যাংশ (ডিভিডেন্ড ইল্ড) গড়ে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। যদিও ইন্ডাস্ট্রির গড় প্রকৃত লভ্যাংশ ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। ইউনিটহোল্ডাররা ৭ থেকে ১৩ শতাংশ হারে প্রকৃত লভ্যাংশ পাচ্ছেন অন্তত পাঁচটি এএমসির ব্যবস্থাপনাধীন ফান্ড থেকে।

অস্বচ্ছতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে রেসের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্রমেই কমছে, যার প্রতিফলন দেখা যায় সংশ্লিষ্ট ফান্ডগুলোর ইউনিটের বাজারদরেও। গত সপ্তাহ পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য বলছে, স্টক এক্সচেঞ্জে বর্তমান সম্পদমূল্যের চেয়ে গড়ে প্রায় ৪৭ শতাংশ কমে (ডিসকাউন্টে) হাতবদল হচ্ছে রেসের ব্যবস্থাপনাধীন মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর ইউনিট, যেখানে অন্য কোনো এএমসির ক্ষেত্রে এ ডিসকাউন্ট ৩০ শতাংশ ছাড়ায়নি। সর্বনিম্ন ১২ শতাংশ ডিসকাউন্টে লেনদেন হওয়া মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডও দেখা যাচ্ছে দেশের মিউচুয়াল ফান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে। মিউচুয়াল ফান্ডসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক রেসের কারণেই তালিকাভুক্ত মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর ইউনিটের গড় বাজারদর তাদের চলতি সম্পদমূল্যের ৬৫ শতাংশ ছাড়াচ্ছে না।

রেসের ব্যবস্থাপনাধীন ফান্ডগুলোর একটির উদ্যোক্তা ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড। ফান্ড ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা দরকার বলে মন্তব্য করেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সম্পদ ব্যবস্থাপক ও ট্রাস্টির। ব্যাংক হিসেবে আমরা শুধু টাকা বিনিয়োগ করেছি। ফারমার্স ব্যাংকে বিনিয়োগ কিংবা রেস পরিচালিত ফান্ডের ব্যবস্থাপনায় যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে তা খতিয়ে দেখতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে এর দায়িত্ব বিএসইসির। ট্রাস্ট ব্যাংকের বিনিয়োগকৃত টাকা ঝুঁকিতে নেই। তবে ফান্ডটির ইউনিট কিনে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

জানা গেছে, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের একসময়ের কর্মকর্তা চৌধুরী নাফিজ সারাফাতের রেস অ্যাসেট ২০০৮ সালে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে লাইসেন্স পায়। নানা কৌশলে ২০১৩ সালের মধ্যেই ১০টি মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পায় তারা। এত অল্প সময়ের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে এত মিউচুয়াল ফান্ডের দায়িত্ব যাওয়ারও রেকর্ড এটি। ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের পাশাপাশি রেসের ব্যবস্থাপনায় থাকা মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডগুলো হলো— ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, পপুলার লাইফ ফার্স্ট, আইএফআইসি ব্যাংক ফার্স্ট, ফার্স্ট জনতা মিউচুয়াল ফান্ড, পিএইচপি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড, এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ড ও এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। মেয়াদি ফান্ডগুলোর উদ্যোক্তার প্রারম্ভিক মূলধন, বিনিয়োগকারীদের সাবস্ক্রিপশন ও বছর বছর পুনর্বিনিয়োগের জন্য ইস্যু করা পুনর্বিনিয়োগ ইউনিট মিলিয়ে রেস এখন পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৭২৪ কোটি টাকার বেশি মূলধন সংগ্রহ করেছে। বিনিয়োগকৃত সম্পদের বাজারমূল্যের ভিত্তিতে গত সপ্তাহে এ তহবিলের মোট এনএভি ছিল ৩ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা।

জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ বলেন, সম্প্রতি আমি জনতা ব্যাংকের এমডি পদে দায়িত্ব নিয়েছি। ওই বিনিয়োগটি ২০০৮ সালে করা হয়েছিল। পুরো বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে পত্রপত্রিকার মাধ্যমে সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে রেসের ব্যর্থতার বিষয়টি জানতে পেরেছি। সহসাই আমরা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব।

পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাতিষ্ঠানিকের পাশাপাশি এখন ব্যক্তিশ্রেণীর অনেক বিনিয়োগকারীও পুঁজিবাজারে তাদের পোর্টফোলিওর একটি অংশ মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে চান। শুরুতে ভালো সাড়া পেলেও ক্রমবর্ধমান অনাস্থার কারণে ইন্ডাস্ট্রিতে এখন কেউই রেস পরিচালিত ফান্ডগুলোয় বিনিয়োগ করে ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।

সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে নিজের দক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্ব প্রমাণের বহু আগেই রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের হাতে ১০টি মিউচুয়াল ফান্ডের দায়িত্ব দেয়ার সিদ্ধান্তটি অবিবেচনাপ্রসূত ছিল বলে মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম। দেশের প্রথম এএমসি আইসিবির সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের পর্ষদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী এ পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় ফান্ডটির পর যে উদ্যোক্তারা রেসকে তাদের ফান্ডের দায়িত্ব দিয়েছেন, তারা ভুল করেছেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থারও উচিত হয়নি এত অল্প সময়ে মিউচুয়াল ফান্ড ইন্ডাস্ট্রির অর্ধেকটা তাদের হাতে তুলে দেয়া। ব্যবস্থাপনাধীন তহবিলের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটিতে যথেষ্ট দক্ষ লোকবল নেই।

বণিক বার্তার অনুসন্ধানেও রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের অস্বচ্ছতা, অদক্ষতা, অনিয়ম ও নন-কমপ্লায়েন্সের নানা তথ্য পাওয়া গেছে।

বিনিয়োগে অস্বচ্ছতা: বিদ্যমান মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা অনুসারে সম্পদ ব্যবস্থাপকের ওয়েবসাইটে চলতি এনএভি প্রকাশের পাশাপাশি বিনিয়োগকৃত সম্পদের ত্রৈমাসিক বিবরণী প্রকাশ বাধ্যতামূলক। রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ওয়েবসাইটে গিয়ে সর্বশেষ এনএভি ও মূল্যসংবেদনশীল তথ্যের নোটিসের বাইরে ফান্ড সম্পর্কিত আর কোনো আর্থিক তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি ২০১৬-১৭ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীগুলোও অনুপস্থিত। হোম পেজে আর্থিক তথ্য সম্পর্কিত একটি লিংক থাকলেও তা অকার্যকর। এ কারণে রেসের ফান্ডগুলোর ইউনিটহোল্ডাররা সময়মতো জানতে পারছেন না, সম্পদ ব্যবস্থাপক তাদের টাকা কোথায়, কীভাবে বিনিয়োগ করছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ ও অন্যান্য উত্স থেকে সংগৃহীত পূর্ববর্তী একাধিক আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনায়ও দেখা যায়, ইউনিটহোল্ডার ও বিশ্লেষকদের পর্যাপ্ত তথ্য দেয়ার বিষয়গুলো নানাভাবে এড়িয়ে যায় রেস। ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ডের ২০১৪-১৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে বিতর্কিত ফারমার্স ব্যাংকে ইকুইটি বিনিয়োগ দেখানো হয় ২৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ব্যাংকটির পারফরম্যান্স নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করলে ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ হিসাব বছরের বিবরণীতে এ বিনিয়োগের শিরোনাম পাল্টে রাখা হয় ‘তালিকাবহির্ভূত লাইসেন্সড কমার্শিয়াল ব্যাংকে ইকুইটি বিনিয়োগ’। পূর্ববর্তী প্রতিবেদনটি না পড়লে কোনো ইউনিটহোল্ডারের পক্ষে বোঝা কঠিন, তার অর্থ ফারমার্স ব্যাংকের মতো একটি ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ হয়েছে।

ফারমার্স ব্যাংকের শেয়ারে প্রিমিয়াম নিয়ে লুকোচুরি: সমস্যাগ্রস্ত ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডে রেসের ব্যবস্থাপনাধীন নয়টি মেয়াদি ফান্ডের ইকুইটি বিনিয়োগ রয়েছে অন্তত ৭০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট ফান্ডগুলোর নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে প্রদর্শিত বিনিয়োগ উপাত্ত ও ব্যাংকের শেয়ার বিভাজন তালিকা হিসাব করে দেখা যায়, ব্যাংকটির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ২-৩ টাকা হারে প্রিমিয়াম দিয়েছে সম্পদ ব্যবস্থাপক। যদিও ব্যাংকের নিরীক্ষিত ব্যালান্স শিটে প্রিমিয়ামের কোনো শিরোনামই খুঁজে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ফান্ডের আর্থিক বিবরণীতে ফারমার্স ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগের মোট অংকটি দেয়া থাকলেও কী পরিমাণ শেয়ারে কত টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে, নোটেও তা উল্লেখ করা হয়নি।

মাল্টি সিকিউরিটিজ অধিগ্রহণ মূল্য বিতর্ক: মেয়াদি ফান্ডগুলোর ২০১৬ সালের নিরীক্ষিত প্রতিবেদন ও অন্যান্য উত্স থেকে পাওয়া উপাত্তে দেখা যায়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেকহোল্ডার মাল্টি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের ৬৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ (২ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার ৭১০টি) শেয়ারের জন্য রেসের ১০ মিউচুয়াল ফান্ড থেকে খরচ করা হয়েছে ৭৫ কোটি টাকার বেশি। এ হিসাবে মাঝারি প্রোফাইলের এ ব্রোকারেজ হাউজের প্রতিটি শেয়ারের দাম দেয়া হয়েছে গড়ে ২৯ টাকা ৫৪ পয়সা। এ হিসাবে কোম্পানিটির দাম ধরা হয়েছে ১১৭ কোটি টাকার বেশি, যা এর পরিশোধিত মূলধন ৩৯ কোটি ৬০ লাখ ৯০ হাজার টাকার প্রায় তিন গুণ। বিদ্যমান সম্পদ ও ব্রোকারেজ ব্যবসায় অবস্থান মিলিয়ে এ দামকে স্বাভাবিক বলে মনে করছেন না সংশ্লিষ্টরা।

স্পেশাল পারপাস ভেহিকল ফান্ড: সম্পদভিত্তিক সিকিউরিটিজ ইস্যু বিধিমালা ২০০৪-এর আওতায় ২০১৫ সালে যাত্রা করা বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম স্পেশাল পারপাস ভেহিকল ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপকও রেস। বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত ও তালিকাবহির্ভূত তহবিল হওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এর বিনিয়োগসংক্রান্ত কোনো উপাত্তই পান না।

হালনাগাদ উপাত্ত বলছে, এসপিভি ফান্ডটিতে আবার তালিকাভুক্ত ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ডের বিনিয়োগ রয়েছে ১১৭ কোটি টাকা। ফার্স্ট জনতার বিনিয়োগ রয়েছে ৩১ কোটি টাকা। অর্থাত্ এ দুই ফান্ডের ১৪৮ কোটি টাকা শেষ পর্যন্ত কোথায়, কীভাবে বিনিয়োগ করা হচ্ছে, এটি জানার সুযোগ পাচ্ছেন না ইউনিটধারীরা।

মাল্টি সিকিউরিটিজের উপাত্ত অনুসন্ধানে দেখা যায়, ব্রোকারেজ হাউজটির ১ কোটি ১১ লাখ ১৭ হাজার ২৫০টি শেয়ার রয়েছে স্পেশাল পারপাস ভেহিকল ফান্ডের হাতে। সব মিলিয়ে রেসের ব্যবস্থাপনাধীন তহবিলগুলোর কাছে ব্রোকারেজ হাউজটির মোট ৩ কোটি ৬৭ লাখ ২৭ হাজার ৯৬০টি শেয়ার ছিল, যা মোট শেয়ারের ৯২ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

প্রয়োজন হলে ট্রাস্টি পরিবর্তন: ট্রাস্টির হেফাজতে থাকে মিউচুয়াল ফান্ড। ট্রাস্ট দলিলের শর্ত দ্বারা অনুমোদিত হলে ইউনিটহোল্ডারদের পক্ষে ট্রাস্টিই সম্পদ ব্যবস্থাপকের নিয়োগ বাতিল করে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, চিরায়ত এ ধারার ঠিক উল্টোটা হচ্ছে রেসের ব্যবস্থাপনাধীন ফান্ডগুলোর ক্ষেত্রে। দ্বিমত হওয়ায় রেসের ইচ্ছায় চলতি বছর অন্তত চারটি ফান্ডের দায়িত্ব থেকে সরে যেতে চেয়েছিল ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (বিজিআইসি) লিমিটেড। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তা অনুমোদন করেনি।

এসব বিষয়ে জানতে রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সারাফাত ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান তাহের ইমামের সেলফোনে একাধিকবার কল করেও তাদের পাওয়া যায়নি। পরে এসএমএস পাঠানো হলে তাতেও সাড়া দেননি তারা। রাজউক এভিনিউয়ে রেসের কার্যালয়ে গিয়েও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বেশকিছু সম্পদ ব্যবস্থাপকের অস্বচ্ছতা ও অদক্ষতার কারণে মিউচুয়াল ফান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতি মানুষের আস্থা চলে গেছে বলে মনে করছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট মোস্তাক আহমেদ সাদেক। রেস এর মধ্যে অন্যতম উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে সম্প্রতি যেসব নতুন ফান্ড বাজারে এসেছে, সেগুলো বেশ ভালো করছে। আশা করছি, আগামী বছরদুয়েকের মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে সুদিন ফিরে আসবে।বনিকবার্তা

Share this...
Share on FacebookPrint this pageShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn



Skip to toolbar