Search
Wednesday 17 January 2018
  • :
  • :

ইন্টারপোলের রেড নোটিশ অকার্যকর! যুদ্ধাপরাধী মঈনুদ্দীন লন্ডনে প্রকাশ্যে

ইন্টারপোলের রেড নোটিশ অকার্যকর! যুদ্ধাপরাধী মঈনুদ্দীন লন্ডনে প্রকাশ্যে
Spread the love

এশিয়ানপোস্ট ডেস্ক  : একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক আলবদর কমান্ডার চৌধুরী মঈনুদ্দীনের নামে রয়েছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিশ। কিন্তু সেই নোটিশ কোনো কাজে আসছে না। মঈনুদ্দীন বর্তমানে উত্তর লন্ডনে আয়েশী জীবনযাপন করছেন। অথচ তাকে খুঁজেই পাচ্ছে না ইন্টারপোল! সংস্থাটি খুঁজে না পেলেও সহজেই এ যুদ্ধাপরাধীকে শনাক্ত করা গেছে বলে এক প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক পত্রিকা দ্য সান। এতে বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে চলাফেরা করা ৬৯ বছর বয়সী মঈনুদ্দীনের কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর লন্ডনের উপকণ্ঠ সাউথগেটে মঈনুদ্দীন একটি বিলাসবহুল বাড়িতে বসবাস করেন। তার মূল্য প্রায় ১০ লাখ পাউন্ড। একাত্তরে আলবদর বাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়া ও ১৮ বুদ্ধিজীবীকে হত্যার দায়ে ২০১৩ সালে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে বিদেশের মাটিতে আরাম-আয়েশেই দিন পার করছেন তিনি। উল্টো ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) সাবেক পরিচালক মঈনুদ্দীন সেই রায়কে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে দাবি করেন। এ ছাড়া বিচারককেও তিনি ‘রাবিশ’ বলে উল্লেখ করেন। তার আইনজীবীও রায়কে ‘শো ট্রায়াল’ বা ‘লোক দেখানো বিচার’ বলে আখ্যা দেন।

ইন্টারপোলের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড ব্রিটিশ ফিউগিটিভ’-এর তালিকায় রয়েছে মঈনুদ্দীন। তালিকায় থাকা ২৫ জনই ‘পলাতক’। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধেই মঈনুদ্দীনের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছিল সংস্থাটি। তাকে গ্রেফতারে ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সহায়তাও চেয়েছে বাংলাদেশ।

ব্রিটিশ দৈনিকটি গত মঙ্গলবারের ওই প্রতিবেদনে আরও জানায়, সাজাপ্রাপ্ত মঈনুদ্দীন লন্ডনে প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়ান, স্বাভাবিক কাজকর্ম করেন। তিনি নিয়মিত শপিংয়ে ও মসজিদে যান।

এ বিষয়ে মঈনুদ্দীনের এক প্রতিবেশী মন্তব্য করেন, হয়তো ইন্টারপোল কঠোরভাবে তাকে খুঁজছে না। তিনি জানান, তারা এখানে ১৮ বছর ধরে আছে। মঈনুদ্দীনের যুদ্ধাপরাধ কিংবা ইন্টারপোলের পরোয়ানার বিষয়ে কিছুই জানি না। তার বাড়িতে কয়েকবার পুলিশ দেখার কথা জানিয়েছেন অপর প্রতিবেশী। তবে মঈনুদ্দীন তার বাড়িতে বসেই দাবি করেছেন, তিনি ইন্টারপোলের রেড নোটিশের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।

এদিকে, সম্প্রতি এক সকালে সাউথগেটে মঈনুদ্দীনের বিলাসবহুল বাড়িতে গিয়ে হাজির হন যুক্তরাজ্যের আরেক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের সাংবাদিক। সেখানে বাড়ির দরজা সামান্য খুলে কথা বলেন এক নারী। মঈনুদ্দীনের বিষয়ে জানতে চাইলে আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী ওই নারী জানান, তিনি বাড়িতে নেই এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তার ফেরার সম্ভাবনা নেই। আর কোনো কথা না বলে তিনি দরজা বন্ধ করে দেন।

১৯৩০ সালের দিকে নির্মিত বিলাসবহুল বাড়ির প্রাঙ্গণে দামি বিএমডব্লিউ ফাইভ সিরিজের কালো রঙের এক গাড়ি দেখেছেন ডেইলি মেইলের সাংবাদিক। সেখানে আরও অন্তত দুটি গাড়ি রাখার মতো জায়গাও রয়েছে।

মঈনুদ্দীনের সঙ্গে একই রায়ে আরেক বদর নেতা আশরাফুজ্জামান খানেরও সাজা হয়েছিল। আশরাফ রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। জামায়াতে ইসলামীর তখনকার সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের এ দুই কেন্দ্রীয় নেতা মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয় শিক্ষক, ছয় সাংবাদিক, তিন চিকিৎসকসহ ১৮ বুদ্ধিজীবীকে অপহরণের পর হত্যা করেন। রায়ের পর এক সাক্ষাৎকারে মঈনুদ্দীন দম্ভভরে বলেছিলেন, বিচারক ও তাদের চ্যালাচামু ারা নিজেরা উল্টো ঝুলে পড়লেও তাকে ঝোলাতে পারবে না।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই মঈনুদ্দীন যুক্তরাজ্যে পালিয়ে যান। ব্রিটিশ নাগরিকত্বও পান। তার ৫৭ বছর বয়সী স্ত্রী ফরিদা ও চার সন্তান রয়েছে। বাংলাদেশে সাজা হলেও মঈনুদ্দীনকে ফাঁসিতে ঝোলানোটা অসম্ভবই হবে বলে ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, ব্রিটেনের সঙ্গে বাংলাদেশের অপরাধী বিনিময়ের চুক্তি নেই। এ ছাড়া ফাঁসির দ প্রাপ্ত আসামিকে তার নিজ দেশ ফেরত পাঠানো ব্রিটেনের নীতিবিরুদ্ধ।

Share this...
Share on FacebookPrint this pageShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn



Skip to toolbar