Search
Wednesday 17 January 2018
  • :
  • :

দিবস বৃত্তে আওয়ামী লীগ

দিবস বৃত্তে আওয়ামী লীগ
Spread the love

এশিয়ানপোস্ট ডেস্ক : অনেকটা স্বস্তিতেই বছর পার করেছে আওয়ামী লীগ। টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতার চতুর্থ বছরে বিরোধী পক্ষের আন্দোলন কর্মসূচি না থাকায় দলীয় ও দিবস কেন্দ্রিক কর্মসূচি পালনের বৃত্তেই বন্দি ছিল দলটির কার্যক্রম। তবে  আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে দলের নেতাদের তৎপরতা ছিল দৃশ্যমান। বিদায়ী বছরটি স্বস্তিতে পার করলেও আসছে বছর আওয়ামী লীগের জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন নেতারা। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন এবং দলের পক্ষে বিজয় ধরে রাখার এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সামনের বছরটি হবে এক অগ্নিপরীক্ষা। এজন্য বছরের শুরু থেকেই নির্বাচন কেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড জোরদার করতে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

এছাড়া সামনের নির্বাচন কি প্রক্রিয়ায় হবে, কার অধীনে হবে তা এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় সামনে এ নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াতে পারে বলেও মনে করছেন দলের নেতারা। এদিকে বিরোধী পক্ষের বড় ধরনের আন্দোলন কর্মসূচি না থাকায় দলীয় ও দিবস কেন্দ্রিক কর্মসূচিতেই ব্যস্ত ছিল আওয়ামী লীগ। দিবস কেন্দ্রিক কর্মসূচিতে দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। এছাড়া দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ ও সম্পাদক মণ্ডলীর বৈঠক হয়েছে নিয়মিত। এসব বৈঠকের বেশিরভাগ হয়েছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে। দলীয় কর্মসূচির মধ্যে সদস্য সংগ্রহ, বর্ধিত সভা, তৃণমূলের কাউন্সিলসহ বেশ কিছু কর্মসূচি পালন করা হয় বছর জুড়ে। এসব কর্মসূচিতে নিয়মিত উপস্থিতি ছিল দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন। ঢাকার বাইরের জেলার কর্মসূচিতেও তার উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। এছাড়া আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে নিয়মিত নেতাকর্মীদের সাক্ষাৎ দিচ্ছেন তিনি। বছরের শেষ দিকে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন ছিল দলটির জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা। যদিও এ সিটিতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মিত্র জাতীয় পার্টির প্রার্থীর কাছে বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে দলীয় প্রার্থীর। নির্বাচনে আগেই এমন ফলের আভাস ছিল মানুষের মুখে মুখে। হারলেও জয়, জিতলেও জয় এমন একটা অবস্থানে থেকে রংপুর নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ। তবে নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজয় চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে দলটির নেতাদের কপালে। কারণ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এমন হারের ফলটা সামনের জন্য শুভকর নয় বলেই মনে করছেন তারা। তবে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারাটাকে বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে দলের পক্ষ থেকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আত্মতুষ্টি থাকলেও রংপুরের নির্বাচন ক্ষমতাসীনদের জন্য একটি বড় বার্তা দিয়েছে। যা থেকে আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দলটিকে নতুন করে ভাবতে হবে। বিদায়ী বছরে কুমিল্লা সিটি নির্বাচন ছিল আওয়ামী লীগের জন্য অন্য এক পরীক্ষা। ওই নির্বাচন ছিল বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সামনে কঠিন পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় কমিশন জিতলেও বিএনপির প্রার্থীর কাছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারতে হয়। নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলে সন্তোষ প্রকাশ করলেও দলীয় বিশ্লেষণে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকেই হারের পেছনে বড় কারণ হিসেবে সামনে আনেন নেতারা। বড় এই দুই নির্বাচনে হারের সমালোচনার সঙ্গে বেশ কিছু ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলার নির্বাচন এবং উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে স্থানীয়ভাবে। যদিও নির্বাচন কমিশন এসব স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে আসছে শুরু থেকে।
এদিকে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সংলাপ আয়োজনে বিরোধী পক্ষের দাবির প্রেক্ষিতে শুরু থেকে কৌশলী ভূমিকায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। বর্তমান সংবিধানের অধীনে নির্বাচন হবে এ কথা বলে আসছেন নেতারা। বর্তমান সংবিধানের অধীনে নির্বাচন হলে ক্ষমতাসীন সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচন হবে। এমনটি ধরে নিয়ে নির্বাচন প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে। এ ইস্যুতে আলোচনা ও সংলাপ বিষয়টি বরাবরই নাকচ করে আসছেন আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ কয়েক দফা সংলাপ সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। বিএনপি সংলাপের পরিবেশ নষ্ট করেছে অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, অতীতে সংলাপের জন্য বিএনপিকে বার বার ডাকা হলেও তারা তাতে সাড়া দেয়নি। এমনকি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুতে সমবেদনা প্রকাশের জন্য তার বাসায় গেলেও সেখান থেকে তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। যা কোনোভাবেই রাজনৈতিক সৌজন্যবোধের মধ্যে পড়ে না। এ ধরনের আচরণের পর দলটির সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনায় আগ্রহী নয় আওয়ামী লীগ। এছাড়া জামায়াত ইস্যুটিকেও সংলাপের সামনে অন্তরায় দেখছে দলটি। বিএনপির রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দলটি বিএনপির সঙ্গে থাকলে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক সংলাপ হতে পারে না বলেও নেতারা বলে আসছেন। সর্বশেষ গত ৭ই ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোন দল নির্বাচন করবে, কোন দল করবে না এটা তাদের সিদ্ধান্ত। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে এটিও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। এদিকে বিরোধী পক্ষ বিএনপিকে নিয়ে বাইরে এমন বক্তব্য রাখলেও দলটি নির্বাচনে আসছে এমনটি ধরে নিয়েই আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রস্তুতি চলছে। বিএনপি নির্বাচনে থাকলে পরিস্থিতি কেমন হবে তা বিবেচনায় রেখেই দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা এবং তৃণমূলের প্রস্তুতির নির্দেশনা রয়েছে দলের হাইকমান্ড থেকে। নির্বাচন সামনে রেখে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন, কমিটি গঠনের কাজও চলছে দেশজুড়ে। তবে অনেক জেলায় নির্ধারিত সময়ে এ কার্যক্রম শেষ হয়নি। দলের সদস্য পদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান চলমান রয়েছে। গত ২০শে মে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় দলের সভাপতি শেখ হাসিনা নিজ সদস্য পদ নবায়নের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে জেলায় জেলায় এ কার্যক্রম চলছে। দলীয় এ কর্মসূচি সফল করতে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন জেলা সফর করেন। উপজেলা, জেলা ও মহানগর কমিটি গঠন উপলক্ষে কাউন্সিল কর্মসূচিতেও কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন। এদিকে টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় দলের নেতাদের সঙ্গে স্থানীয় এমপিদের অনেক স্থানে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে সংঘাত সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে অহরহ। এসব দ্বন্দ্ব দূর করতে বছরের শুরু থেকেই নানা উদ্যোগ নেয়া হয়। দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বেশ কয়েকটি জেলার নেতাদের ঢাকায় ডেকে বিরোধ মিটিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। তবে অনেক জেলায় এখন পাল্টা পাল্টি অবস্থান থেকে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। এদিকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে ১১ দফা প্রস্তাব দেয়। বিএনপি নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনা মোতায়েনের দাবি জানালেও আওয়ামী লীগ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনা রাখার কথা বলেছে। এছাড়া ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে দলটির প্রস্তাবে, যদিও এ ইস্যুতে পাল্টা অবস্থান জানিয়েছে বিএনপি। সংলাপে বিএনপিসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন দাবি করলেও আওয়ামী লীগ এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি। দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে বলা হয়েছে নির্বাচন ইস্যুটি মীমাংসিত বিষয়। আগের সংসদ নির্বাচন যেভাবে হয়েছে সংবিধান অনুযায়ী সামনের নির্বাচনও একইভাবে হবে। এদিকে দিবস কেন্দ্রীয় দলীয় কর্মসূচি নিয়ে সারা বছরই সরগরম ছিল আওয়ামী লীগ। দলীয় ও জাতীয় দিবসে রাজধানীসহ সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। দিবসের কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে বেশ কয়েক দফা বড় শোডাউন করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে ইউনেসকোর স্বীকৃতি প্রদান উপলক্ষে সারা দেশে নানা কর্মসূচি পালন করা হয় দলীয়ভাবে। এ উপলক্ষে ১৮ই নভেম্বর সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানে বড় সমাবেশ করে আওয়ামী লীগ। এতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বড় শোডাউন ছিল। বছর শেষে ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে এ নির্বাচনকেও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল ইসলামকে দলের প্রার্থী হিসেবে গ্রিন সিগন্যাল পেয়েছেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে আওয়ামী লীগ। দলীয় সূত্র বলছে, রাজধানীতে ভোটের পরীক্ষা দিয়েই নতুন বছর শুরু করতে চায় আওয়ামী লীগ। তবে শেষ পর্যন্ত আইনি মারপ্যাঁচে এ নির্বাচন আটকে যায় কিনা এ নিয়ে সংশয় রয়েছে অনেকের মাঝে। মানবজমিন

Share this...
Share on FacebookPrint this pageShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn



Skip to toolbar