মামলা দৌড়ে বিএনপি

মামলা দৌড়ে বিএনপি
Spread the love

এশিয়ানপোস্ট ডেস্ক: মামলার তোড়েই বছর পার করেছে বিএনপি। দলটির শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের একই পরিস্থিতি। সপ্তাহের বেশির ভাগ দিন তাদের গন্তব্য আদালত। অসংখ্য মামলায় হাজিরাকে কেন্দ্র করে বছরের  বেশির ভাগ সময় কেটেছে আদালতের বারান্দায়। বিগত বছরগুলোতে দায়েরকৃত মামলাগুলোর বেশির ভাগ চার্জশিট হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বেশকিছু মামলার।

ফলে নির্ধারিত দিনে হাজির না হলেই জারি হচ্ছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াই পড়েছেন মামলার তোড়ে। অন্যদিকে সাংগঠনিক পুনর্গঠন, আন্দোলন কর্মসূচি প্রণয়নসহ সার্বিকভাবে অগোছালো বছর পার করেছে বিএনপি। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে সোচ্চার থাকলেও সে দাবি আদায়ে নিতে পারেনি কার্যকর পদক্ষেপ। আগামী দিনের রূপরেখা হিসেবে ‘ভিশন-২০৩০’ প্রকাশ করা হলেও নির্বাচনকালীন ‘সহায়ক সরকারের ফর্মুলা’টিও রয়ে গেছে অঘোষিত। বক্তৃতা-বিবৃতিতে নিরপেক্ষ সরকারের বিষয়ে অনঢ় থাকলেও দলটির অবস্থান এখন কার্যত আলোচনামুখী। সরকারের তরফে বারবার নাকচের পরও আগামী একাদশ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আলোচনার তাগিদ দিয়ে গেছে বিএনপি। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য ও দলীয় কর্মসূচির মধ্যে ফুটে উঠেছে নির্বাচনমুখী মনোভাব। সরকারকে চাপের মধ্যে রেখে তুলনামূলক অনুকূল পরিস্থিতি পেলেই নির্বাচনে যাওয়ার মনোভাব পোষণ করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। দলটির এ মনোভাব ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে সর্বমহলে। নির্বাচনকে বিবেচনায় রেখে দলকে তৃণমূলে শক্তিশালী করতে পুনর্গঠন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি নেয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি কোনটিই। নতুন কোনো দলকে যুক্ত করতে পারেনি আন্দোলনের প্লাটফর্মে। অন্যদিকে সতর্কভাবে রাজপথের আন্দোলন এড়িয়ে চলা দলটির বছর শেষ হচ্ছে একটি অনিশ্চয়তায়। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাকে কেন্দ্র করে দারুণ অস্বস্তির মধ্যে রয়েছে বিএনপি। নানামুখী অস্বস্তির মধ্যেও ২০১৭ সালে দলটিকে স্বস্তি দিয়েছে চারটি ঘটনা। চিকিৎসার উদ্দেশে টানা তিন মাস লন্ডন অবস্থান শেষে ১৮ই অক্টোবর দেশে ফিরলে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দর সড়কে জমায়েত হয়েছিল বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক। যে উপস্থিতি ছিল দেশের ইতিহাসে অভূতপূর্ব। ঠিক এক মাসের মধ্যে ৭ই নভেম্বর উপলক্ষে সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি পায় বিএনপি। শেষ মুহূর্তে অনুমতি পাওয়ার পরও সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের জমায়েত দারুণভাবে চাঙ্গা করে বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃত্বকে। পরপর দুইটি বিপুল জমায়েতের পর তৃতীয় জমায়েতটি হয় খালেদা জিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফরে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারের উখিয়া পর্যন্ত দীর্ঘ এ রাস্তায় রীতিমতো ঢল নেমেছিল মানুষের। এছাড়া ২০১৭ সালে বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে গুরুত্ব পায় বিএনপি। খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, মার্কিন পলিটিক্যাল আন্ডার সেক্রেটারি টমাস এ শ্যাননসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নেতা ও কূটনীতিক।
চিকিৎসা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাতে ১৫ই জুলাই লন্ডন যান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। প্রাথমিকভাবে এক মাসের জন্য সে সফর থাকলেও টানা তিন মাস লন্ডন অবস্থান করেন তিনি। এ সময় চিকিৎসার পাশাপাশি সেখানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে কয়েকটি বৈঠকের খবরও প্রকাশ হয় গণমাধ্যমে। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের কর্মকাণ্ড ছিল একেবারেই নিস্তেজ। লন্ডন থেকে দেশে ফিরেই মামলার তোড়ে পড়েন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রাষ্ট্রদ্রোহসহ কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। দেশে ফিরে পরদিনই আদালতে হাজিরা দেন তিনি। বছরের শেষদিকে এসে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত হাজিরা দিতে হচ্ছে আদালতে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৫ কার্যদিবস আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছেন খালেদা জিয়া। মামলা দুইটির বিচারপ্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে হওয়ায় সম্ভাব্য রায় নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে বিএনপি। এদিকে খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরাকে কেন্দ্র করে আদালতের আশপাশে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের ওপর অব্যাহত রয়েছে পুলিশের লাঠিচার্জ। সেই সঙ্গে প্রতিটি হাজিরার দিন ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে পুলিশের। বিএনপি ও অঙ্গদলের বেশির ভাগ কেন্দ্রীয় নেতাই ২০ থেকে ২০০শ’র বেশি মামলার আসামি। দলের কার্যালয়ের চেয়ে তাদের বেশি সময় কাটে আদালত আর আইনজীবীদের চেম্বারে। তারপরও খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরা দেয়াকে কেন্দ্র করে নভেম্বর ও ডিসেম্বর দুই মাসে রমনা-পল্টন-শাহবাগ থানায় নতুন মামলা হয়েছে অন্তত ৩০টি। নভেম্বর-ডিসেম্বর জুড়ে রাজধানীসহ সারা দেশে চলছে পুলিশের নীরব ধরপাকড়। গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে দফায় দফায়। ওদিকে ২০১৭ সালে কয়েক দফায় হামলার শিকার হয় বিএনপি চেয়ারপারসন ও মহাসচিবের গাড়িবহর। জুন মাসে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রথম কবর জিয়ারত করতে গিয়ে রাঙ্গুনিয়ায় সরকার সমর্থকদের হামলার শিকার হয় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহর। তিনি নিজেও আহত হন। অন্যদিকে নভেম্বর ২৯ ও ১লা ডিসেম্বর ফেনীতে সরকার সমর্থকদের হামলায় শিকার হয় খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। আবার বছরের শেষদিকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে হঠাৎ দেখায় কুশল বিনিময় করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া রংপুর সিটি নির্বাচনে প্রচারণা চালাতে গিয়ে চলতি পথে কুশলবিনিময় করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ ও বিএনপি মহাসচিব।
নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে সোচ্চার থাকলেও আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েই পথ হাঁটছে বিএনপি। জুন মাসে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠান থেকে আাগামী জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান খালেদা জিয়া। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্য বিবেচনায় রেখে আন্দোলনের চেয়ে আলোচনার আহ্বানকে জোর দিচ্ছে দলটি। তারই প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে দলের একটি বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করেছে বিএনপি। ‘ভিশন-২০৩০’- শীর্ষক সে রূপরেখায় আগামী দিনে তাদের রাজনৈতিক গতিপথ ও সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে কি কি করতে চায় তার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়। সেই সঙ্গে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের একটি ফর্মূলা দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বছরজুড়ে সম্ভাব্য এ সহায়ক সরকারের ফর্মুলা নিয়ে আলোচনা ছিল রাজনৈতিক মহলে। তবে শেষ পর্যন্ত সে ফর্মুলা প্রকাশ করেনি বিএনপি। অন্যদিকে বছরের প্রথম মাসেই গঠিত হয় নতুন নির্বাচন কমিশন। সমঝোতার প্রত্যাশায় এ নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিক আলোচনায় অংশগ্রহণ নেয় বিএনপি। তবে সার্চ কমিটি গঠনের পর এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দলটি। নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে দলের ও জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নবগঠিত নির্বাচন কমিশন নিয়েও সন্তুষ্ট হতে পারেনি তারা। বর্তমান নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণের বিষয়টি ফের আলোচনায় আসে। তবে এ পদ্ধতিকে দুরভিসন্ধিমূলক আখ্যায়িত করে দলটি প্রথম থেকেই সোচ্চার হয়। অক্টোবর মাসে ইসি’র সঙ্গে সংলাপে ২০ দফা প্রস্তাব দেয় বিএনপি। সেই সঙ্গে ইসিকে তাগিদ দেয় সাংবিধানিক ক্ষমতা চর্চার। অন্যদিকে ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছিল বিএনপি। কিছু নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিলেও তাদের আস্থা পায়নি নির্বাচন কমিশন। কুমিল্লা ও রংপুর দুইটি সিটি নির্বাচনের মধ্যে কুমিল্লায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি মনোনীত মনিরুল হক সাক্কু। তবে রংপুর সিটি নির্বাচনে তৃতীয় অবস্থানে ছিল ধানের শীষের প্রার্থী। অন্যদিকে বছরের শেষদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের অকাল মৃত্যুতে শূন্য এ সিটির উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। প্রার্থী হিসেবে প্রথম পছন্দে রয়েছেন বিগত নির্বাচনে অংশ নেয়া তাবিথ আউয়াল। বিকল্প হিসেবে আলোচনায় রয়েছে বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী শাকিল ওয়াহেদ সুমনের নাম। তবে এ বছর অনুষ্ঠিত পৌর-উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোর ফলাফল ছিল পুরোপুরি তাদের প্রতিকূলে। অন্যদিকে ২০১৭ সালের প্রথম সপ্তাহেই দশম নির্বাচনের তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি রাজধানীর সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানে ঘোষণা করেছিল পতাকা সমাবেশ। তবে পুলিশের অনুমতির না পাওয়ায় সে সমাবেশ করতে পারেনি বিএনপি। প্রতিবাদে ঘোষিত দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচিটিও পড়ে পুলিশি বাধার মুখে। ২০১৭ সালে জনস্বার্থ ইস্যুতে কয়েকটি কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মার্চে দুইঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিল দলটি। ২০১৭ সালের ২০শে মে হঠাৎ করে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এ নিয়ে রাজনৈতিক ময়দান উত্তপ্ত হলেও বড় কোন কর্মসূচি দেয়নি দলটি। আন্দোলন ও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে এ বছর দুইবার তৃণমূলে বার্তা দিয়েছে বিএনপি। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার রায় ও রায় পরবর্তী তাকে নিয়ে সরকারের পদক্ষেপের ব্যাপারে প্রথম থেকেই মুখর ছিল বিএনপি।
২০১৭ সালের প্রথমদিকেই সাংগঠনিক পুনর্গঠনে মনোযোগ দেয় বিএনপি। দলকে সাংগঠনিকভাবে চাঙ্গা করতে গঠন করা হয় ৫১টিম। টিমগুলো জেলা পর্যায়ে সফর করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত সে প্রক্রিয়া কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য পৌঁছেনি। দলকে তৃণমূলে শক্তিশালী করতে নতুন সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। ১লা জুলাই কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে খালেদা জিয়া। এরপর দুইদফা সময়সীমা বাড়িয়েও সে কর্মসূচি অর্জন করতে পারেনি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা। অন্যদিকে ১৮ই জানুয়ারি সাইফুল আলম নীরব ও সুলতানা সালাউদ্দিন টুকুর নেতৃত্বে গঠন করা হয় যুবদলের নতুন কমিটি। তবে বছর পেরিয়ে গেলেও তারা গঠন করতে পারেনি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি। একই পরিস্থিতি ঢাকা মহানগর বিএনপি’র। ১৮ই এপ্রিল ঢাকা মহানগর বিএনপিকে দুইভাবে বিভক্ত করে কমিটি ঘোষণা করা হলেও দীর্ঘ ৮ মাসে তারা স্ব-স্ব ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি। দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠনে নেয়া উদ্যোগের কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। অন্যদিকে ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছিল ‘এক নেতা এক পদ নীতি’। নানা জটিলতা সেটা বাস্তবায়ন হয়নি দীর্ঘ সময়েও। তবে চলতি বছর কেন্দ্রীয় পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন ১২ নেতা। এছাড়া দীর্ঘ সময়ে বিএনপি গঠনতান্ত্রিক বিষয়ভিত্তিক সাব-কমিটিগুলোও গঠন করতে পারেনি। চলতি বছর কয়েকটি সাব-কমিটি গঠনের খবর প্রকাশ পেলেও আনুষ্ঠানিকভাবে সেগুলোর ঘোষণা দেয়নি বিএনপি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর দলে সীমিত পরিসরে কমিটি পুনর্গঠনের একটি আলোচনা বেশ হাওয়া পেয়েছিল। কিন্তু তিনি দেশে ফেরার তিন মাসেও তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। এছাড়া দীর্ঘ ১৮ বছরের বৃত্ত ভেঙে এ বছর জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের নতুন কমিটি ঘোষণার আলোচনা তুঙ্গে উঠলেও শেষ পর্যন্ত সে উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তবে এ বছর দলে ফিরেছেন কয়েকজন সংস্কারপন্থি নেতা। ওয়ান-ইলেভেনের সময় দলের সংস্কার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সক্রিয় রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়া এসব নেতা ফের সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এ প্রক্রিয়ায় দলে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন আরও কয়েকজন। অন্যদিকে দীর্ঘ কয়েক বছরে ধরে জোটের পরিসর বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। সে লক্ষ্যে দুই জোটের বাইরে থাকা দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন দলটির নেতারা। তবে এ বছর মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বে নতুন দল নাগরিক ঐক্য ও প্রফেসর ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত নতুন জোট যুক্তফ্রন্টকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি।
২০১৭ সালের মধ্যভাগে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল দেশের মধ্য ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে। এ সময় ত্রাণ কমিটি গঠনের মাধ্যমে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছে বিএনপি। বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে হাওরকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পরে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ার পাশাপাশি দেশের মিয়ানমার সীমান্তে শুরু হয় উত্তেজনা। লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয়ের দাবিতে মুখরিত হয় বিএনপি। সেই সঙ্গে শুরু করে কূটনৈতিক তৎপরতা। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য দেশ ছাড়াও ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে দেশগুলোর প্রধানের কাছে একটি চিঠি পাঠান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। সে চিঠিতে রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা সেবায় দলের তরফে গঠন করা হয় ত্রাণ টিম ও মেডিকেল ক্যাম্প। খালেদা জিয়া নিজেই রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে উখিয়া সফর করেন। বিএনপি’র মেডিকেল ক্যাম্প চালু রেখে প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজার রোহিঙ্গাকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। অন্যদিকে ২০১৭ সালে দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে হারিয়েছে বিএনপি। মৃত্যুবরণ করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস, স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, ভাইস চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ খান মুন্নু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাজী আনোয়ার হোসেন, জোটের শরিক দল জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান ও বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছোটভাই আহমেদ কামাল প্রমুখ। অন্যদিকে দীর্ঘ সাত মাস নিখোঁজ থাকার পর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী ফিরলেও বছরের মাঝামাঝি সময়ে নিখোঁজ হন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য সৈয়দ সাদাত আহমেদ। এছাড়া রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়েছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বহু তৃণমূল নেতাকর্মী।  মানবজমিন

Share this...
Share on FacebookPrint this pageShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn



Skip to toolbar