আসামের নাগরিক তালিকা নিয়ে প্রশ্ন রাজনৈতিক নেতাদের

আসামের নাগরিক তালিকা নিয়ে প্রশ্ন রাজনৈতিক নেতাদের
Spread the love

এশিয়ানপোস্ট ডেস্ক :  ভারতের আসামে সদ্য প্রকাশিত জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) তালিকার খসড়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সেখানকার রাজনৈতিক নেতারা। তালিকায় বড় ধরনের অমিলের অভিযোগ করেছেন তারা। এনআরসি খসড়া নিয়ে ভারতের পার্লামেন্টেও গতকাল কথা হয়েছে। দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস বলেছে, প্রকৃত নাগরিকদের তালিকা থেকে বাদ দেয়া যাবে না। খবর আসাম ট্রিবিউন ও পিটিআই।

আসামের শিলচরের এমপি সুস্মিতা দেব গতকাল লোকসভায় এনআরসি ইস্যুটি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, ৩০ নভেম্বর দেয়া নির্দেশনায় সুপ্রিম কোর্ট ৩১ ডিসেম্বর রাতে ২ কোটি ৩৮ লাখ নাম প্রকাশ করতে বলেছেন। কিন্তু এ তালিকায় নাম এসেছে তার চেয়ে কম। প্রকৃত নাগরিকরা যাতে তালিকার বাইরে না থাকে, আমরা সরকারকে তা নিশ্চিত করতে বলছি।

নতুন প্রকাশিত তালিকায় নাম ওঠেনি ৪০ শতাংশ আবেদনকারীর। এদের মধ্যে রয়েছেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রাজনীতিকও। আসাম বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা দেবব্রত সাইকিয়া প্রকাশিত তালিকায় বিরোধী দলের অনেক রাজনীতিকের নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

কংগ্রেস নেতা দেবব্রত সাইকিয়া বলেন, আমাদের দলের বিধায়ক ওয়াজেদ আলী চৌধুরী ও নুরুল হুদা ১৯৫১ সালের এনআরসি নিবন্ধনের প্রমাণপত্র জমা দিলেও তাদের নাম ওঠেনি। আরো দুই বিধায়ক শুকুর আলী আহমেদ ও শেরমান আলীর জমা দেয়া দলিলপত্র এখনো যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, কিছুদিন আগে সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে এনআরসি রাজ্য সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলা নিজেই ২ কোটি ৩৮ লাখ আবেদন যাচাই-বাছাই হয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছেন। কিন্তু প্রকাশিত খসড়ায় মাত্র ১ কোটি ৯০ লাখ নাম রয়েছে। আমরা এ অমিলের ব্যাখ্যা চাই।

তিনি আরো বলেন, এনআরসি কর্তৃপক্ষের প্রতি ভবিষ্যতে আরো সতর্ক ও সজাগ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। বাকি খসড়াগুলো দ্রুত প্রকাশ করার দাবি জানাচ্ছি। অতীতে এনআরসি নিয়ে অনেক রাজনীতি হয়েছে। রাজ্যের মানুষ ভবিষ্যতে এসব মেনে নেবে না।

এনআরসির পরবর্তী খসড়াগুলো আরো দ্রুত প্রকাশের দাবি এসেছে আসামের আরেক প্রভাবশালী দল অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (এআইইউডিএফ) পক্ষ থেকেও। এআইইউডিএফ নেতা বদরুদ্দীন আজমল বলেন, তালিকা দেখে মনে হচ্ছে আসামের লোকসভা, বিধানসভার সদস্যরাও

বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। দলের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রকাশিত তালিকায় মাত্র ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষের নাম এসেছে। আমরা চাই, কালক্ষেপণ না করে অবশিষ্ট দুটি খসড়াও প্রকাশ করা হোক। এনআরসির খসড়া নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

রোববার রাতে প্রকাশিত তালিকায় নাম ওঠেনি এআইইউডিএফ নেতা ও ধুবড়ি থেকে তিনবার নির্বাচিত লোকসভা সদস্য বদরুদ্দীন আজমল, তার ভাই ও লোকসভা সদস্য সিরাজুদ্দীন আজমল, বদরুদ্দীন আজমলের পুত্র ও যমুনামুখের বিধায়ক আব্দুর রহিম আজমল। দলের নেতা ও লোকসভা সদস্য রাধেশ্যাম বিশ্বাস, পশ্চিম বিলাসীপাড়া আসনের বিধায়ক হাফিজ বশির কাশিমী, ধুবড়ির বিধায়ক নজরুল হক, অভয়াপুরীর বিধায়ক অনন্ত মালো, দলগাঁর বিধায়ক ইলিয়াছ আলী, গৌরীপুরের বিধায়ক মিজানুর রহমানের নামও নেই। এআইইউডিএফের ১৩ বিধায়কের মধ্যে মাত্র দুজনের নাম খসড়া তালিকায় এসেছে বলে দৈনিক অসমীয়া প্রতিদিন জানিয়েছে।

এআইইউডিএফের কার্যকরী সভাপতি ও হোজাই-জুড়িয়ার সাবেক বিধায়ক আদিত্য লাংথাছার নামও প্রকাশিত তালিকায় নেই। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেছেন, ভূমিপুত্র হওয়া সত্ত্বেও এনআরসিতে নাম না থাকা আশ্চর্যজনক। অবশ্য নাম থাকা-না থাকা নিয়ে আমি চিন্তিত নই।

আসাম কংগ্রেসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা, রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী ও শালপাড়ার বিধায়ক রাশেদ আলি চৌধুরী ও তার স্ত্রী-পুত্র-কন্যা কারো নাম তালিকায় ওঠেনি। রুপহিহাটের কংগ্রেসদলীয় বিধায়ক নুরুল হুদা ও তার পরিবারের কারো নামও পাওয়া যায়নি। তিনি জানিয়েছেন, তার নির্বাচনী এলাকা রুপহিহাটের ৭০ শতাংশ মানুষের নাম এনআরসিতে নেই। একই এলাকায় কংগ্রেসের সাবেক বিধায়ক ও মন্ত্রী অর্ধেন্দু কুমার দের নামও নেই। অর্ধেন্দু দে এ বিষয়ে বলেন, এনআরসিতে নাম থাকা আমার কাছে বড় বিষয় নয়। আমার জন্ম, কর্ম সবই আসামে।

এছাড়া যাদের নাম ওঠেনি বলে জানা গেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন বিধান সভা সদস্য কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ, ররক্ষেত্রীর বিধায়ক নারায়ণ ডেকা, নলবাড়ীর বিধায়ক অশোক শর্মা, আসাম মুসলিম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (আমসু) সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম সরকার, আসাম সংখ্যালঘু সংগ্রাম পরিষদ সভাপতি আবদুল আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী খলিফা, গোলকগঞ্জের বিজেপিদলীয় বিধায়ক অশ্বিনী রায় সরকার ও হোজাই এলাকার বিধায়ক শিলাদিত্য দেব।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, প্রকাশিত তালিকায় আসামের নেলি জেলার যেসব অধিবাসী বাদ পড়েছে, তাদের মধ্যে মুসলিম পরিবারগুলোর সদস্যই বেশি। ১৯৮৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি নেলি জেলার ১৪টি গ্রামে একদিনে ১ হাজার ৮০০ বাঙালিকে হত্যা করা হয়। তখন থেকে জেলাটিকে আসামে বাঙালি-আদিবাসী উত্তেজনার হটস্পট ভাবা হয়।

Share this...
Share on FacebookPrint this pageShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn



Skip to toolbar