সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া চূড়ান্ত , দুর্ঘটনার সাজা ৩ বছর!

সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া চূড়ান্ত , দুর্ঘটনার সাজা ৩ বছর!
Spread the love

এশিয়ানপোস্ট ডেস্ক :  বেপরোয়া বা নিয়ন্ত্রণহীন গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হলে চালকের সর্বোচ্চ সাজা মাত্র ৩ বছর জেল অথবা ২৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ড- এমন বিধান রেখে সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে কেউ মারা গেলে বা আহত হলে চালক বা দায়ী ব্যক্তির কী ধরনের শাস্তি হবে তা স্পষ্ট করা হয়নি। এক্ষেত্রে কৌশলে পেনাল কোডের আওতায় বিচারের কথা বলা হলেও ধারার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করা হয়নি। শুধু তাই নয়, সড়ক দুর্ঘটনার মামলা জামিনযোগ্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়ায়।

যদিও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারীরা সড়ক দুর্ঘটনার দায়ী ব্যক্তির শাস্তি সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন ও সর্বনিন্ম ৫ থেকে ৭ বছরের জেল এবং জামিন অযোগ্য ধারার বিধান রেখে আইন করার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দাবি মেনে সড়ক দুর্ঘটনার সাজা ৩ বছরই রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। তারা জানান, বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে প্যানেল কোডের ৩০৪ (খ) ধারায় মামলা হচ্ছে।

এ ধারায় সর্বোচ্চ সাজা ৩ বছর। শাস্তি কম হওয়ায় দুর্ঘটনার ব্যাপারে চালকরা তেমন সতর্ক হবেন না। পাশাপাশি তাদের মধ্যে কোনো ধরনের ভীতিও কাজ করবে না। ফলে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া এই সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা দুরূহ হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।

শ্রমিকদের দাবি মেনে নিয়ে তৈরি করা এ খসড়ায় যে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে, সেটিও কমাতে নানা তৎপরতা চালাচ্ছেন শ্রমিক নেতারা। এ লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাসহ পরিবহন নেতারা। সাজা কমাতে সরকারের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতেই এ বৈঠকের আয়োজন- এমন মন্তব্য সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের। পরিবহন নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বুধবার রাতে তিনি টেলিফোনে বলেন, বৈঠক করি, তাদের বক্তব্য শুনি তারপর আমার মতামত জানাব। বৈঠকের আগে কোনো মন্তব্য করব না।

এ বৈঠক প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যা যুগান্তরকে বলেন, আইনের বিভিন্ন ধারায় সাজার ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। সেগুলোর বিষয়ে আলোচনার জন্য বৈঠকে বসছি। আমাদের পক্ষ থেকে খসড়া আইনের সংশোধনীর বিষয়ে একটি প্রস্তাব দেয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের তৈরি করা ওই খসড়টি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। এর পরপরই এটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম বুধবার যুগান্তরকে বলেন, সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তাদের মতামত পাওয়ার পর চূড়ান্ত করা হবে। সাজার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কাজে ব্যস্ত থাকার কারণ দেখিয়ে এড়িয়ে যান।

নিরাপদ সড়ক করার দাবি খসড়া আইনে প্রতিফলন হয়নি উল্লেখ করে নিরাপদ সড়ক চাইর (নিসচা) চেয়ারম্যান চিত্রাভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন যুগান্তরকে বলেন, আমরা সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৫ থেকে ৭ বছর কারাদণ্ড এবং জামিন অযোগ্য ধারায় মামলার বিধান যুক্তের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের সেই দাবি পূরণ হয়নি। মালিক-শ্রমিকদের দাবিই পূরণ করা হল।

খসড়াটিকে ‘উদ্ভট’ আইন আখ্যায়িত করে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাংবাদিক মিশুক মুনীরের স্ত্রী মঞ্জুলী কাজী বলেন, দুর্ঘটনা কমাতে এ খসড়া আইনটি মোটেও কার্যকর আইন হবে না। মালিকদের স্বার্থ রক্ষা করে এবং তাদের মন মতো করেই এ আইনটির খসড়া করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় একটি মানুষ মারা যাবে, এর সাজা মাত্র ৩ বছর হবে এটি কেমন কথা? সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা উচিত। এতে অন্তত চালকরা সচেতনভাবে গাড়ি চালাবেন। এ সচেতনতা সৃষ্টির জন্যই আইনে কঠোর সাজা রাখা উচিত। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় যার স্বজন মারা যান তিনিই তা হারানোর কষ্ট বোঝেন। স্বজন হারানোর কষ্ট আমি তিলে তিলে টের পাচ্ছি। এ আইনটির বিভিন্ন দুর্বলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আইনের কোথাও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা লেখা নেই। বরং আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, পুলিশের উপস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে মালিকের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ রাখা হয়েছে।

খসড়া আইনের ৯৭ ধারায় দুর্ঘটনা সংক্রান্ত অপরাধের বিষয়ে বলা হয়েছে, মোটরযান চালনাজনিত কোনো দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটলে বা গুরুতর কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ আহত হলে এ সংক্রান্ত অপরাধ পেনাল কোড ১৮৬০-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী অপরাধ বলে গণ্য হবে। এতে আরও বলা হয়েছে, সড়ক বা মহাসড়কে গতিসীমার অতিরিক্ত গতি বা বেপরোয়াভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, ওভারলোডিং বা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে মোটরযান চালনার কারণে কোনো দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট চালক, কন্ডাক্টর বা সহায়তাকারী ব্যক্তি এ আইনের অধীন অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবেন এবং সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী দণ্ডিত হবেন।

দুর্ঘটনায় ৯৭ ধারায় সরাসরি সাজার বিধান না থাকলেও ৯১ ধারায় ৩ বছরের কারাদণ্ড অথবা ২৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। ৯১ ধারায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত গতিতে বা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো বা ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বা ওভারলোডিং বা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে মোটরযান চালনার ফলে কোনো দুর্ঘটনায় জানমালের ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট চালক, কন্ডাক্টর বা সহায়তাকারীর বিরুদ্ধে অপরাধ বলে গণ্য হবে। এ অপরাধের জন্য অনধিক ৩ বছর জেল, ২৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এবং চালকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হিসেবে দোষসূচক ২ পয়েন্ট কাটা হবে। তবে একই আইনের ৯৩ ধারায় দণ্ড ভোগকারী একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলে সর্বোচ্চ দণ্ডের দ্বিগুণ দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনার কারণ প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ট্রুমা লিংক ট্রাস্টের পরিচালক (অপারেসন্স) এশা চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, আমরা ঢাকা-মানিকগঞ্জের ৩০ কিমি. এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৫০ কিমি. এলাকা পর্যবেক্ষণ করছি। আমার অভিজ্ঞতা হচ্ছে, ওভারস্পিডিং, ওভারটেকিং ও ওভারলোডিংয়ের জন্য বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে, অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। আইনে এসব অপরাধে কঠোর সাজা রাখা হলে দুর্ঘটনা অনেকটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কঠোর সাজার বিধানের ফলে চালকরা দক্ষতা ও সচেতনভাবে গাড়ি চালাবেন।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্টরা নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, পেনাল কোডের কোন ধারায় মামলার বিচার হবে তা নির্ভর করে মামলা দায়ের হওয়া অভিযোগ ও পুলিশের চার্জশিটের ওপর। তারা বলেন, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো মূলত পরিবহন সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের মতের বাইরে পুলিশের চার্জশিট দেয়া অনেকটা দুঃসাধ্য।

এর উদাহরণ দিয়ে তারা বলেন, বেপরোয়া গতিতে বাস চালিয়ে চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজনকে হত্যার দায়ে বাসচালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত। এর আগে এক ট্রাক চালকের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে আরেক ট্রাকে ধাক্কা দিয়ে চালককে হত্যার অভিযোগে ১৪ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। ওই ঘটনার মালিক ও শ্রমিকরা সারা দেশে পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছিলেন এবং রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালিয়েছিলেন। ওই তাণ্ডবের ঘটনায় কারও শাস্তি হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, এর আগে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গাড়িচালকদের বিরুদ্ধে প্যানেল কোডের ৩০২ ধারায় মামলা না করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ৩০২ ধারায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড। বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ নিহত হলে মামলা হয় ৩০৪(খ) ধারায়। এ ধারায় সর্বোচ্চ সাজা তিন বছরের কারাদণ্ড। মালিক ও শ্রমিকদের চাপে আইনেও এ বিষয়টিই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুর রহিম বকশ দুদু বলেন, আমরা সব সমই বলে আসছি, প্রচলিত আইনে বিচার করা হোক। সড়ক আইন নিয়ে বিভিন্ন মিটিংয়েও এ বিষয়টি তুলে ধরেছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রচলিত আইন বলতে দণ্ডবিধির ৩০৪(খ) ধারায় বিচার হোক। এটি জামিনযোগ্য ধারা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদের পরিবারকে ৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা জরিমানার বিধানের বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের রায়ের অপেক্ষায় আছি। ওই রায় দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নেব, গাড়ি চালাতে পারব কিনা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এর আগে সড়ক পরিবহন ও চলাচল আইন ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৫ সালে তৈরি করা খসড়ায় মোটরযান চালিয়ে অপর ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে তিন থেকে সাত বছর শাস্তির বিধান ছিল। এ ছাড়া নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীকে পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং চালকের দোষসূচক পয়েন্ট কাটার প্রস্তাব করা হয়েছিল। আর কেউ আহত করলে পাঁচ বছর পর্যন্ত জেল এবং আহত ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের বিধান ছিল। তবে নতুন খসড়া আইনে গাড়ির মালিক ও চালকদের চাপে কারাদণ্ডের মেয়াদ কমানো হয়েছে; কিন্তু জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।

এছাড়া খসড়া আইনের বিভিন্ন ধারায় আইন অমান্যের কারণে চালকের নামকাওয়াস্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। খসড়া আইনের ৭৯ ধারায় অতিরিক্ত গতিতে বা বেপরোয়াভাবে চালানো বা বিপজ্জনকভাবে ওভারটেকিংয়ের সাজা অনধিক ২ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক দুই লাখ টাকা বা উভয়দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় চালকের এক পয়েন্ট কাটার বিধান রাখা হয়েছে।

৭৮ ধারায় ট্রাফিক সাইন বা সংকেত না মেনে গাড়ি চালালে অনধিক এক মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া খসড়া আইনে কন্ডাক্টর, হেলপার, ড্রাইভিং স্কুল প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা এবং মোটরযান মেরামত কারখানার জন্য লাইসেন্স নেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব আইন না মানলে সাজার বিধান রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মালিক ও শ্রমিকদের চাপে সড়ক আইনটি চূড়ান্ত করা যাচ্ছে না। সড়ক পরিবহন আইন যুগোপযোগী করার উদ্যোগ কয়েক বছর আগেই নেয়া হয়। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে এ আইনের খসড়া সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ওয়েবসাইটে মতামতের জন্য দেয়া হয়। এরপর কয়েক দফায় মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করে বিভিন্ন অপরাধের সাজা কমানো হয়। তারপর তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর পুনরায় সংশোধনসহ আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। সম্প্রতি আইন মন্ত্রণালয় কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে সড়ক বিভাগে পাঠালে তা আবার সংশোধন করে পুনরায় আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। যুগান্তর

Share this...
Share on FacebookPrint this pageShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn



Skip to toolbar