খালাস পেলেও মুক্তির আগেই মারা গেলেন তোরাব আলী

খালাস পেলেও মুক্তির আগেই মারা গেলেন তোরাব আলী
Spread the love

এশিয়ানপোস্ট ডেস্ক  : পিলখানা হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দায়ের করা মামলা থেকে খালাস পেলেও মুক্তির আগেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মারা গেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলী (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)। শুক্রবার ভোর ৬টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীয় অবস্থায় তিনি মারা যান।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের (কেরানীগঞ্জ) কারারক্ষী হানিফ মিয়া তার মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করে জানান, গত ৩ জানুয়ারি তোরাব আলীকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে তিনি মারা যান। ময়নাতদন্তের জন্য তোরাব আলীর মরদেহ ঢামেক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বাচ্চু মিয়া জানান, শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তোরাব আলীর মৃত্যু হয়।

আলোচিত ওই মামলায় জজ আদালতে যে দুই রাজনৈতিক নেতার যাবজ্জীবন সাজার রায় হয়েছিল, তাদের মধ্যে তোরাব আলী একজন। গত ২৭ নভেম্বর আপিলের রায়ে হাই কোর্ট থেকে খালাস পেলেও কাগজপত্র কারাগারে না পৌঁছানোয় তার মুক্তি মেলেনি।

২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের হাইকোর্ট বেঞ্চ আলোচিত এ মামলার আপিলের রায়ে তাকে খালাস দেন। এর আগে পিলখানার মামলায় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি তোরাব আলীকে জজ আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। পরে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন তিনি।

এর আগে তোরাব আলীর মত বিএনপির সাবেক এমপি নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুও এ মামলায় যাবজ্জীবন সাজার রায় পেয়েছিলেন জজ আদালতে। হাই কোর্টে আপিল শুনানির আগেই রাজশাহী কারাগারে থাকা অবস্থায় ২০১৫ সালের ৩ মে হৃদরোগে তার মৃত্যু হয়।

২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর সদরদফতরে বিদ্রোহের ওই ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ অন্তত ৭৪ জন নিহত হন। ওই হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগে তোরাব আলীকে ৩০২ ধারায় সাজা দিয়েছিলেন জজ আদালতের বিচারক। তোরাব আলীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে বলা হয়েছিল, বিডিআরের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসাবে তিনি সুপরিকল্পিত এ বিদ্রোহের কথা আগেই জানতে পারেন। কিন্তু তিনি তা কর্তৃপক্ষকে জানাননি।

তোরাব আলীর ছেলে হারুনুর রশিদ লিটন ওরফে লেদার লিটন ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ উত্তরের সাবেক সহসভাপতি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য। ঢাকার বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির কয়েক ডজন মামলার আসামি লিটন পুলিশের খাতায় ‘পলাতক’ আছেন।

পিলখানা হত্যা মামলায় হাই কোর্ট ১৩৯ জনের ফাঁসির রায় বহাল রেখে ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। এছাড়া ২২৮ জনের তিন থেকে দশ বছরের সাজা হয়েছে; খালাস পেয়েছেন মোট ২৮৮ জন।

Share this...
Share on FacebookPrint this pageShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn



Skip to toolbar