Search
Wednesday 17 January 2018
  • :
  • :

বিপুল অস্ত্র গোলাবারুদ যাচ্ছিল কোথায়

বিপুল অস্ত্র গোলাবারুদ যাচ্ছিল কোথায়
Spread the love

রূপগঞ্জের অস্ত্রের ব্যাগ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ব্যবহার করে দিয়াবাড়ীর অস্ত্রের উত্স এখনো অজানা দেশকে অস্থিতিশীল করতেই এই অস্ত্র আনা হয় :সিআইডি

এশিয়ানপোস্ট ডেস্ক  : রাজধানীর দিয়াবাড়ী খাল ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদের গন্তব্য এখনও জানা গেল না। অস্ত্র-গোলাবারুদের গোপন মজুদের বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে। এ নিয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে নিশ্চিত হয়েছে যে, যারাই এই অস্ত্র এনে থাকুক তা ব্যবহার করতে পারত বিচ্ছিন্নবাদীরা। তাদের হাতে এ অস্ত্র না পৌঁছালে-সেটা দেশকে অস্থিতিশীল করার কাজে ব্যবহার করা হতো বলে মনে করছে পুলিশের সিআইডি। এ ক্ষেত্রে অস্ত্র গোলাবারুদ জঙ্গি গোষ্ঠীর হাতেও পৌঁছে যেত। এ ঘটনার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই অস্ত্র ও গোলাবারুদ বহুমাত্রিক চিন্তা থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। সড়ক পথে আনা এসব অস্ত্র এককভাবে ব্যবহারের জন্য আনা হয়নি। রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে একটি চক্রের হাত থাকতে পারে। ওই চক্রের সঙ্গে অন্য কোনো দেশেরও সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। রূপগঞ্জ ও দিয়াবাড়ীর আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ধরনগত মিল রয়েছে। এ কারণে একই গ্রুপ এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুদ করতে পারে।

২০১৬ সালের ১৮ জুন তুরাগ থানাধীন মিরপুর-আশুলিয়া বেড়িবাঁধ-সংলগ্ন (উত্তরার দিয়াবাড়ী পঞ্চবটির বৌদ্ধমন্দিরের পেছনে) দিয়াবাড়ী খালের পানি থেকে ৯৭টি পিস্তল, ২০২টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৮৪০ রাউন্ড গুলি, ২৬৩টি এসএমজির ম্যাগাজিন, ২১৭ রাউন্ড গুলিসহ অন্যান্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে তুরাগ থানায় দুইটি জিডি দায়ের করা হয়। ওই জিডি দুইটি মামলায় রূপান্তর করে তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগে পাঠানো হয়। পরে জিডি দুইটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।

সিটিটিসি’র তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন,  ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি পাজেরো গাড়ির খোঁজ করা হয়। এ জন্য ঘটনাস্থলের একটু দূরে একটি বাড়ির সিসি ক্যামেরা থেকে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যবেক্ষণ করা হয়। গাড়িটিতে কোনো নম্বর প্লেট ব্যবহার করা হয়নি। এ কারণে এ গাড়ির সন্ধান করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ঘটনার সময় কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেছিল কী না তাও তদন্ত করা হয়েছে। ওই এলাকার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকে তথ্য নেয় পুলিশ। দিয়াবাড়ীর খালের আশপাশের বেশকিছু বাসার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নেন গোয়েন্দারা। এতে দেখা যায়, একটি কালো পাজেরো গাড়িতে করে ব্যাগগুলো নামানো হয়। মুহূর্তের মধ্যে গাড়িটি চলে যায়। ওই গাড়িতে কোনো নম্বর প্লেট ছিল না।

সিটিটিসি’র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘উদ্ধার করা অস্ত্র-গোলাবারুদের ম্যাটারিয়াল এ্যানালাইসিস করা হয়েছে। এর ব্যালাস্টিক পরীক্ষার রিপোর্টও পাওয়া গেছে। এসব অস্ত্র-গোলাবারুদ দেশে কোন কোন সন্ত্রাসী গ্রুপ ব্যবহার করে- সে বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব অস্ত্রের ব্যবহারকারী গ্রুপ সম্পর্কে তথ্য জানা গেলে-এর উত্স সম্পর্কে  নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

গত বছরের ২ জুন রূপগঞ্জের পূর্বাচল ৫ নম্বর সেক্টরে লেকে তল্লাশি চালিয়ে ৬৯টি এসএমজি, ৫টি পিস্তল, ২টি রকেট লান্সার, ৩০টি পোর্টেবল টাইমস ডিভাইস, ৫টি ওয়াকিটকি, ৫০টি এসএমজি ম্যাগাজিন, ১০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৮২৫ এসএমজির গুলি এবং ৬৫০ রাউন্ড এমএম পিস্তলের গুলিসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।

মামলার তদন্তকালে পুলিশ অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার অভিযোগে শরীফ খান, শাহিন হোসেন, রাসেল, শান্ত, মুরাদ মিয়া ও সাব্বিরসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করে।

আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আরো ৮টি এসএমজি উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া আসামিরা নিজেদের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দেন। গত বছরের ৬ ডিসেম্বর এ মামলার অন্যতম পলাতক আসামি হূদয়কে কাতারের দোহা থেকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফেরত আনে সিআইডি। গ্রেফতার হওয়া ৮ জনই এইসব অস্ত্র-গোলাবারুদের বাহক। তাদেরকে কারা এইসব অস্ত্র পৌঁছে দিয়েছে তা বলতে পারেনি।

সিআইডি’র তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, অস্ত্র-গোলাবারুদ ব্যাগে ভরার পর তা শক্ত ও বায়ু নিরোধক পলিথিন দিয়ে প্যাকেজিং করা হয়েছে। এই ব্যাগগুলো পানিতে ফেলে দেওয়ার পরও সেখানে পানি প্রবেশ করেনি। অস্ত্রের ব্যালাস্টিক ও ফরেনসিক পরীক্ষায় তা জীবন্ত পাওয়া গেছে। অস্ত্র সংরক্ষণের কৌশল অবলম্বন করা চক্রটি আন্তর্জাতিক মানের। ব্যাগগুলো পরীক্ষা করে দেখা গেছে—এসব বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীরা ব্যবহার করে থাকে। এসব ব্যাগ দেশের জঙ্গি গোষ্ঠীরাও ব্যবহার করে থাকে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার এহসান উদ্দিন চৌধুরী বলেন, অস্ত্র ও গোলাবারুদের গায়ে উত্পাদনকারী দেশ, প্রতিষ্ঠান ও সিরিয়াল নম্বর নেই। এ থেকে ধারণা করা হতে পারে—এটি একক কাজে ব্যবহারের জন্য আনা হয়নি। বড় ধরনের অপারেশন বা রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে অথবা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর জন্য এখানে মজুদ করা হতে পারে। তিনি আরো বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে পার্বত্য এলাকায় শান্তিবাহিনীর হাতে কারা অস্ত্র দিয়েছিল, কিভাবে এসেছিল— সে ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে এর উেসর সন্ধান মিলবে। উত্স যেখানেই হোক, এটি বড় ধরনের অপারেশনে ব্যবহারের জন্যই দেশে মজুদ করা হয়েছিল। সুবিধাজনক স্থান ভেবে রূপগঞ্জে মজুদ করা হয়েছিল। আর অস্ত্রের উত্স নির্ধারণ করা সম্ভব হলে এ মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে।ইত্তেফাক

Share this...
Share on FacebookPrint this pageShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn



Skip to toolbar