ইলিশ রফতানি উন্মুক্ত হচ্ছে

ইলিশ রফতানি উন্মুক্ত হচ্ছে
Spread the love

এশিয়ানপোস্ট ডেস্ক :  অবৈধ পথে পাচার ঠেকাতে সরকার বৈধভাবে ইলিশ রফতানির সুযোগ দেবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ। প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর গতকাল সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বড় আকারের ইলিশ মাছ গোপনে পাচার হওয়ায় দেশের বাজারে বড় ইলিশ কম পাওয়া যায়। বড় মাছ বাজারে আনতে হলে গোপন পথটি বন্ধ করতে হবে, আমাদের সদর পথটি চালু করতে হবে।

২০১২ সালের আগস্টে ইলিশসহ সব মাছ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পরে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে ইলিশ ছাড়া অন্যসব মাছ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। এবার ইলিশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠলে পাঁচ বছর পর মাছটি রফতানির সুযোগ পাবেন দেশের ব্যবসায়ীরা।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, আমরা রফতানির দিকে যেতে চাচ্ছি এ কারণেও যে, আমাদের ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে— আন্তর্জাতিক বাজারেও চাহিদা রয়েছে। সেজন্য আমরা কিছুটা রফতানি করতে চাই। এছাড়া পাচারের কারণে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। রফতানির অনুমোদন দিয়ে পথটা যদি ওপেন করে দেয়া যায়, গোপনে যাওয়ার পথটা তখন অনেকটা সঙ্কুচিত হবে।

গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন হয় ৩ লাখ ৯৫ হাজার টন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ উৎপাদন ১ লাখ টন বৃদ্ধি পেয়ে ৫ লাখে উন্নীত হয়েছে। অথচ বিগত ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯৮ হাজার টন। ইলিশ এখন ‘ভৌগোলিক নির্দেশক’ পণ্য হিসেবে নিবন্ধন পেয়েছে। রফতানির সুযোগ দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ইলিশের ব্র্যান্ডিং ও শনাক্তকরণও সহজ হবে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, মৎস্য গবেষণা ও জরিপ জাহাজ ‘আরভি মীন সন্ধানী’ বঙ্গোপসাগরে মত্স্যসম্পদের জরিপ ও গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেছে। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় তিনটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মৎস্য মাননিয়ন্ত্রণ পরীক্ষাগার স্থাপন করা হয়েছে। জেনেটিক গবেষণার মাধ্যমে গিফট তেলাপিয়া, কই ও পাঙ্গাশ মাছের জাত উন্নয়ন কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ে উন্নত জাতের গিফট তেলাপিয়া, কই ও পাঙ্গাশ মাছের পোনার এডাপ্টিভ ট্রায়াল কার্যক্রম পরিচালনা করছে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট। এছাড়া দেশে প্রথমবারের মতন মুরাহ্ জাতের মহিষের সিমেন আমদানি করে সফলভাবে কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘বিফ ক্যাটল উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে ব্রাহমা জাতের ক্যাটলের সিমেন আমদানি করে মাংসল জাতের ক্যাটল উন্নয়ন করা হচ্ছে, কৃষকপর্যায়ে যার ফল মিলছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আমরা পুষ্টি চাহিদা পূরণে মত্স্য ও প্রাণিজ আমিষ, দুধ, ডিমসহ সব ক্ষেত্রে অতিদ্রুত স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করব। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে দুধের ঘাটতিও পূরণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ঘাটতি পূরণ করে ডিম ও মাংসে দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারবে দেশ।

দেশে পর্যাপ্তসংখ্যক গরু উৎপাদন হওয়ায় বিদেশ থেকে আপাতত গরু আমদানির পরিকল্পনা নেই বলেও জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী। এছাড়া একদিনের মুরগির বাচ্চার বাজারে বিদ্যমান সিন্ডিকেট ভাঙতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, একদিনের বাচ্চার দাম ন্যায্য পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে। সেটি করা গেলে খামারিরা আরো লাভবান হবেন।

সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মাকসুদুল হাসান খান, মত্স্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আইনুল হক, মত্স্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।বনিবার্তা

Share this...
Share on FacebookPrint this pageShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn



Skip to toolbar